নতুন মন্ত্রিসভা পেল দেশ

minister
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘সর্বদলীয়’ সরকারের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির তিন নেতা, আওয়ামী লীগের উপদষ্টো পরিষদের দুই সদস্য এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। মন্ত্রিপরিষদের এই ছয় নতুন সদস্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছে জাতীয় পার্টির আরো দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য।
সোমবার বিকাল ৩টার পর বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রথমে ছয় মন্ত্রীকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে শপথ নেন দুই প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারমান হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত পাঁচ বছর মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ এবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
মহাজোট সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও এবার মন্ত্রী হয়েছেন, যিনি গত বছর এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
মহাজোটে আর না থাকার ঘোষণা দেয়া এরশাদের স্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারও মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও সালমা ইসলাম শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে।
এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইঞা। শপথের পর নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথনামায় সই করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদও কুশল বিনিময় করেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে দরবার হলে আসেন।
সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং এরশাদের ভাই ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্যও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন আট মুখ : নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আমু ও তোফায়েল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দলে সংস্কারের দাবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়েন। শেখ হাসিনার বিগত সরকারের মন্ত্রী থাকলেও এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি তাদের।

সরকারের চার বছরের মাথায় তোফায়েলকে মন্ত্রী করতে চাইলেও তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। আর দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মেননও তখন সরকারে যোগ দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এক সময়ের ফার্স্ট লেডি রওশন এরশাদ ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ, ২০০১ সালে গাইবান্ধা ও ২০০৯ সালে উপ নির্বাচন করে রংপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার দলের চেয়ারম্যান এরশাদের সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আর রুহুল আমিন হাওলাদার বরিশালের সংসদ সদস্য।
এবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মুজিবুল হক চুন্নু ১৯৮৭-৮৮ সালে এরশাদ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সালমা ইসলাম যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও প্রকাশক।
গেজেটের পর দপ্তর বণ্টন : এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যত মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার অবসান ঘটল এবং সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী শুরু হলো নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকারের।
অবশ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। আগামী জানুয়ারিতে দেশে যখন দশম সংসদ নির্বাচন হবে, নির্বাচনকালীন এই সরকারই তখন ক্ষমতায় থাকবে।
সরকার এই মন্ত্রিসভাকে সর্বদলীয় বললেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
আগের মন্ত্রিসভার ৩১ জন মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কে কে সর্বদলীয় মন্ত্রীসভায় থাকছেন আর কারা বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা এখনো সরকারের দিক থেকে আসেনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূইঞা জানিয়েছেন, সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার আকার হবে আগের মন্ত্রিসভার চেয়ে ছোট। এই সরকার গঠনে গত ১১ নভেম্বরই প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র দিয়ে রেখেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
আগের মন্ত্রিসভার যারা থাকবেন না, তাদের পদত্যাগপত্র সোমবারই রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গেজেট প্রকাশ করবে এবং প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিদের মধ্যে দপ্তর পুনর্বণ্টন করবেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হবে যতো দ্রুত সম্ভব। বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে যারা নতুন মন্ত্রিসভায়ও থাকছেন, তাদের আর নতুন করে শপথ নিতে হবে না।

শেয়ার