অবসরের পরদিন হালকা মেজাজে শচীন

sachin
বাংলানিউজ॥ ভারতীয় ক্রিকেট দলের হোটেলে রোববার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে উঠে নিজের জন্য চা বানালেন শচীন টেন্ডুলকার। শনিবার সকালেও একই সময়ে উঠে চা বানিয়েছিলেন। কিন্তু দুদিনের মাঝে তফাত ছিল, আগের দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষবারের মতো মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘যখন আমি জাগলাম, তখন বুঝতে পারলাম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে আমার তাড়াহুড়ো করে স্নান সারার দরকার নেই। আমি নিজেই চা বানালাম। স্ত্রীর সঙ্গে নাস্তা করলাম। সকালটা বেশ নিরুদ্বেগ কেটেছে’, সাবেক ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম সকালে এভাবেই হালকা মেজাজে কথা বললেন ব্যাটিং লিজেন্ড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে ম্যাচ শেষে ফোনে ভক্তদের শুভকামনায় সাড়া দিয়ে অনেক সময় কাটালেন শচীন। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে ৩০ বছরের সম্পর্কের মধুর স্মৃতিগুলো মাত্র ৩০ ঘণ্টাতেই ভুলে যাওয়ার নয়, ‘আমি জানি না কেন যেন মনে হচ্ছে না আমি আর কখনও ক্রিকেট খেলব না। মনে হচ্ছে হয়তো আবারও মাঠে নেমে খেলব।’
ক্রিকেট ছাড়া জীবনটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে জানিয়েছিলেন অসংখ্য ব্যাটিং রেকর্ডের মালিক। তবে জাকজমক ও আবেগী বিদায়ী সংবর্ধনার পরদিন কথাবার্তা ও শারীরিক মনোভাবে হালকাই দেখা গেল শচীনকে। জানালেন আর চালিয়ে যাওয়ার মতো শরীর ঠিক সাড়া দিচ্ছিল না, ‘আপনাদের বুঝতে হবে গত ২৪ বছর অনেক চোটের মধ্য দিয়ে গেছি। সেরে ওঠা সহজ ছিল না। জীবনের একটা সময়ে এসে শরীর আপনাকে বলবে ‘ধকল যথেষ্ট সয়েছে শরীর, এখন বিশ্রাম প্রয়োজন’। আমার মনে হয়েছিল এতো বোঝা আর শরীর সইতে পারছিল না। আজকাল মাঝে মধ্যে মনে হতো আমার বসে থেকে টিভি দেখা উচিত। অনেক সময় নিজের মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগত। যখন প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলাম, তখন বুঝলাম এখনই সরে যাওয়ার সঠিক সময়।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যা ঘটেনি অবসরের কয়েক ঘণ্টা পরই তেমন একটি ঘটনা ঘটল শচীনের জীবনে। শিষ্য আত্মতৃপ্ত হবে এই ভেবে কোনোদিনও ‘সাবাস’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি কোচ রমাকান্ত আচরেকার। এদিন শচীনকে ডেকে নিয়ে বললেন ‘সাবাস, খুব ভালো করেছ।’
এনিয়ে শচীন বললেন, ‘স্যারের জন্য আজ আমি এই জায়গায়। তিনি ও আমার ভাই অজিত মাঠে ও মাঠের বাইরে একটি দল হিসেবে ছিল। মাঠের বাইরে মানে বাসায়। যখন আমি ভারত রতœ পেলাম তখন স্যার আমাকে ডেকে বলল ‘সাবাস’। এটা ছিল আমার জন্য বিশাল পাওয়া।’

শেয়ার