তারেক খালাস, মামুনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

coart

বাংলানিউজ ॥
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার (মানিলন্ডারিং) মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত।
রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি জরিমানাও করা হয়েছে। পাচারকৃত ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০০২ এর ২ (ঠ), (অ), (আ) ও ১৩ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয়।
রোববার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করে দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে রায় ঘোষণা করে খাসকামরায় ঢুকে যান। মামলা দায়েরের ৪ বছর ২১ দিন পর এ মামলার রায় দেওয়া হলো।
খালাসপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মামুনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলা দায়ের থেকে রায় পর‌্যন্ত পুরো বিচার প্রক্রিয়ায়ই তারেক রহমান অনুপস্থিত ছিলেন।
রায়ে বিচারক বলেন, যদিও মামলার প্রধান সাক্ষী নির্মাণ কন্সট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলাম মামুনকে দেওয়া টাকা কনসালটেন্সি ফি হিসাবে দিয়েছেন মর্মে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামুনও আত্মপক্ষ স্বীকার করতে গিয়ে ওই টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু ওই পরিমাণ টাকা ফি হিসাবে নেওয়ার মতো কনসালটেন্সি ফার্ম মামুনের ছিল না। ওই টাকা অনৈতিকভাবে চাপ দিয়ে নেওয়া হয়েছিল মর্মে প্রমাণিত হয়েছে।
সেই টাকা দেশে গ্রহণ করলে বিভিন্ন ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় বিদেশে ওই টাকা গ্রহণ করা হয়। যা মানিলন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মামুনের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ৫০ হাজার ডলার উত্তোলন করে খরচ করেছেন। ওই টাকা খরচ করার কথা তারেক রহমান অস্বীকার করেননি। ২০০৭ সালে তারেক রহমান দুদকে দাখিল করা হিসাব বিবরণীতে তা উল্লেখ করেছেন। বিধায় তারেকের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হলো।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
অপরদিকে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন দুদকের আইনজীবীরা। তারা দুদকের আইনজীবীদের চোর, বাটপার, ঘুষখোর বলে হট্টগোল শুরু করেন। সে সময় দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল, আনিসুল হক, কবির হোসাইন, রফিকুল হক বেনুসহ কয়েক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় আধা ঘন্টা তাদের ঘেরাও করে রাখেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। এরপর আনিসুল হককে আদালত থেকে বের করে দিয়ে তাদের সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে মোশারফ হোসেন কাজলের ওপর। দুদক আইনজীবীরা টাকা খেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

শেয়ার