এক অভিযোগে দু’রকম রায় যুক্তিযুক্ত নয়

dudok
বাংলানিউজ ॥
অর্থপাচারের মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকুসুর খালাস এবং তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থদণ্ডসহ সাত বছরের কারাদণ্ডকে ‘এক অভিযোগে দুই রায়’ মন্তব্য করে হতাশা প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার বিকেলে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাংবাদিকদের বলেন, একই ধরনের অভিযোগে মামুনের কারাদণ্ড এবং তারেক রহমানের খালাস আমাদের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে না। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তাতে রায় ভিন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই এ রায়ে হতাশ দুদক। রায়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই দুদক আপিল করবে উল্লেখ করে দুদকের অন্যতম প্রধান এ নির্বাহী জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে কমিশন আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জমানের কাছে জানতে চাইলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনো হাতে পাইনি। রায় হাতে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে দেখে তারপর মন্তব্য করবো। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার (মানিলন্ডারিং) মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। পাচারকৃত ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০০২ এর ২ (ঠ), (অ), (আ) ও ১৩ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয়। রোববার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন দুদকের দায়ের করা মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করে দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে রায় ঘোষণা করে খাস কামরায় ঢুকে যান। মামলা দায়েরের ৪ বছর ২১ দিন পর এ মামলার রায় দেওয়া হলো। খালাসপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মামুনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়ের থেকে রায় পর্যান্ত পুরো বিচার প্রক্রিয়ায়ই তারেক রহমান অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৩ জুন অপর একটি অর্থপাচার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মনকে ৬ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন একই আদালত। এছাড়াও তাদের ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের মে মাসে কোকো সরকারের নির্বাহী আদেশে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যান। তারপর তাকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আদালত আদেশ দিলেও তিনি ফিরে না আসায় তাকে পলাতক দেখিয়ে ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার