হরতালের আগুনে এখনো পুড়ছেন তারা!

burn
বাংলানিউজ ॥
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিবিভাগের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছেন রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মোহাম্মদ রোকন (৪০)।
হরতাল সমর্থকদের দেওয়া আগুনে তার শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ডান পা ছাড়া শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যেখানে হরতাল সমর্থকদের দেওয়া আগুন স্পর্শ করেনি। দগদগে ক্ষতের ওপর মোড়ানো সাদা ব্যান্ডেজেও তার যন্ত্রণা কিছুতেই কমছে না। অসহ্য যন্ত্রণায় ঘুমহীন তার দু’টি চোখের পাতা ফুলে গেছে। কালি পড়েছে চোখের নিচে।
রোকন কার্ভাড ভ্যানচালক। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় গাজীপুরের বাইপাসে অগ্নিদগ্ধ হন তিনি। ঘটনার দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। সেই থেকেই তার ঠিকানা এই বার্ন ইউনিট।
তার পাশে থাকা ছোট ভাই ইব্রাহিম জানান, ভাই (রোকন) খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ভালো করে কথা বলতে পারেন না। রাতে ঘুমান না, আমরাও ঘুমাতে পারি না।
রোকনের পাশে একই ওয়ার্ডে হরতালের আগুনে পুড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আরও আট জন। তাদের মধ্যে একজন চাঁদপুরের মতলব উপজেলার আব্দুল রাজ্জাক মিঠু। তার শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তিনি রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় শিশু পার্ক এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হন।
হরতালকারীদের আগুনে রেহাই পায়নি ১৩ বছর বয়সী মিলনও। সে ধানম-ি ১৫ নম্বরে রোববার অগ্নিদগ্ধ হন। তার শরীরের ১৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।
আগুনে শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের মুক্তার রয়েছেন ৮ নম্বর বেডে। রোববার লক্ষ্মীবাজারে লেগুনায় হরতালকারীদের দেওয়া আগুনের শিকার হন তিনি।
ক্ষোভের সুরে মুক্তার বলেন, কি বিচার চাইবো? এসবের বিচার হয় না।
রাজনীতিবিদদের কাছে দাবি জানাই, আর কেউ যেন এমন যন্ত্রণায় না পড়েন।
গুলিস্তান থেকে ধামরাই রুটের জনসেবা বাসের হেলপার সাভারের রনি। ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি বাসের ভেতরে হরতালের আগুনের শিকার হন। ঘুম ভেঙেই দেখেন চারদিকে অন্ধকার। নেক চেষ্টা করে এক পর্যায়ে তিনি বাস থেকে বের হন। এর মধ্যেই হরতালকারীদের দেওয়া আগুনে তার শরীরের ১৭ শতাংশ পুড়ে যায়।
নয় নম্বর বেডের আব্দুর রহিমের শরীরের ৩৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। পাশে রয়েছেন তার ভাই করিম। করিম জানান, গত মঙ্গলবার রায়েরবাগে কোমল বাসে দেওয়া আগুনে পুড়ে যান তিনি। রহিম প্রতিনিয়ত যন্ত্রণায় কাতরান।
দরজির কাজ করা মুক্তার হরতালকারীদের আগুনের শিকার হন লক্ষ্মীবাজার এলাকায়। আগুনে শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে তার। পাশেই রয়েছেন রায়েরবাগ থেকে আগুনের শিকার হওয়া দুলাল। তার শরীরের পুড়ে গেছে ৩৭ শতাংশ।
এদের পাশেই নারী ওয়ার্ডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন দাদি রহিমা বেগম (৫০) ও নাতি সুমি (৯)। তারা দু’জনে নেত্রকোনা থেকে ঢাকার উত্তরায় আসছিলেন। পথে গাজীপুরের জয়দেবপুরে হরতালকারীদের আগুনের শিকার হন।
এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চার তলার পুরুষ পেয়িং ওয়ার্ডে ৫জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থা শরীয়তপুরের আবুল কালাম আজাদের।
তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর রাখিবাজারে থাকেন। আবুল কালামের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ থেকে জানা গেছে, নতুন করে আর কোনো রোগী ভর্তি হননি। তবে শুক্রবার সকালে মন্টু পাল নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শেয়ার