সাত বছর জেল হতে পারে তারেকের

law
বাংলানিউজ ॥
যৌথভাবে দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের। একজন প্রধান বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ ছেলে ও দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অপরজন তার ব্যবসায়িক বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। তাদের বিরুদ্ধে রায়ের দিন ধার‌্য আছে রোববার।
আইন বলছে, দোষী প্রমাণিত হলে সাজা সবোর্চ্চ সাত বছর। সর্বনিম্ন ছয় মাস। এছাড়াও অপরাধে জড়িত অর্থের অনধিক দ্বিগুণ অর্থদ-ও হতে পারে।
প্রায় ২৯ মাস আগে ২০১১ সালের ২৩ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৩ সিঙ্গাপুর ডলার এবং ৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ মার্কিন ডলার (সে সময়ের বাজারদর অনুযায়ী ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৮টাকা) অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে রায় ঘোষণা করা হয়। যাতে তাকে ছয় বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। জরিমানা করা হয় ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারের ছোটো ছেলে এ দ- মাথায় নিয়ে বর্তমানে অবস্থান করছেন সিঙ্গাপুরে।
আর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজনের মতো মামলা থাকলেও এই প্রথম কোনো মামলার রায় হতে যাচ্ছে। তিনিও এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন কয়েকটি মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে।
মামলার শুরু যেখানে: অবৈধ অর্থ লেনদেন ও পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমান ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরের বছর ৬ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। চার্জশিট দাখিলের এক বছর পর ২০১১ সালের ৮ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেকের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার বন্ধু মামুন অবৈধভাবে অর্থ নেন। মামুনের মাধ্যমে ২০০৩-২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরে পাচার করেন তারেক রহমান। ওই অর্থের মধ্যে সিঙ্গাপুরের সিটিব্যাংক এন এর একটি শাখায় মামুনের ব্যাংক হিসাবে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা করা হয়।
তারেক ও মামুনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের আগস্টে এ মামলার বিচার শুরু হয়। এর মধ্যে তারেক রহমানকে দুর্নীতি মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ২৬ মে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক মো. মোজাম্মেল হক।
চলতি বছর ২৪ অক্টোবর বাদী ও আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা শেষ হয়। শুধু দেশীয় সাক্ষী নয়, এ মামলায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট মিস ডেবরা লেপরোভেট সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। ১৪ নভেম্বর শেষ হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। ওইদিনই রায়ের তারিখ নির্ধারণ হয়।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জরুরি অবস্থা জারি থাকাকালে দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেফতার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। পরে তার জামিন নিম্ন আদালত থেকে বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অন্যতম কৌসুলি খুরশীদ আলম খান বাংলানিউজকে জানান, এ মামলার কার‌্যক্রম চলা নিয়ে হাইকোর্টে এসেছিলো আসামিপক্ষ। কিন্তু আপিল বিভাগ বলেছে মামলা চলবে ২০০৯ সালের মানিলন্ডারিং আইনে। সাজা হবে ২০০২ সালের আইনে। যদি এ আইনে কারো দোষ প্রমাণ হয় তবে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর কারাদ- ভোগ করতে হবে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০২ (রহিত) আইনের ১৩ (১) এ বলা হয়েছে,“কোন ব্যক্তি মানিলন্ডারিং এর সাথে কোনভাবে জড়িত থাকিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷”
২) “উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট অপরাধী অন্যুন ছয় মাস এবং অনধিক সাত বত্সর কারাদ-ে দ-নীয় হইবেন এবং অপরাধের সহিত জড়িত অর্থের অনধিক দ্বিগুণ অর্থদ-ে দ-নীয় হইবেন৷”

শেয়ার