টেন্ডুলকার যুগের অবসান

2
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ম্যাচটি ভারত জিতে নিয়েছে আড়াই দিনেরও কম সময়ে। তবে কত রানে, কার নৈপুণ্যে – সব গৌন হয়ে গেল ক্রিকেটের এক মহাতারকার বিদায়ে।
বিদায়ী টেস্টে শচীন টেন্ডুলকারকে জয়ই উপহার দিয়েছে সতীর্থরা। চেতেশ্বর পুজারা, রোহিত শর্মা ও প্রজ্ঞান ওঝার নৈপুণ্যে ইনিংস ও ১২৬ রানে জিতেছে ভারত। আর এর মধ্য দিয়েই ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে টেস্ট অভিষেকের ২৪ বছর পর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ক্রিকেটের মহাতারকা।
মোহাম্মদ সামির ইয়র্কারে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের স্টাম্প ভেঙে যাওয়ায় শেষ হয় অতিথিদের দ্বিতীয় ইনিংস। সঙ্গে শেষ হলো ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়েরও। শেষ টেস্টের স্মারক হিসেবে টেন্ডুলকারও হাতে তুলে নিলেন একটি স্ট্যাম্প।
সাজঘরে ফেরার সময় ধোনির নেতৃত্বে পুরো দল যখন ‘গার্ড অব অনার’ দিচ্ছিল টেন্ডুলকারকে তখন কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করেও পারেননি তিনি। মাথা নিচু করে ছিলেন হ্যাট দিয়ে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টায়। তারপরও ক্যামেরায় ধরা পড়লো তাকে চোখ মুছতে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ছিল ভারতের ‘ক্রিকেট ঈশ্বরের’ সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজে দুই ইনিংসে ১০ ও ৭৪ রানের বেশি করতে না পারলেও দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে জিতেছে ভারত। কলকাতা টেস্টে স্বাগতিকদের জয় ছিল ইনিংস ও ৫১ রানে।
মুম্বাইয়ে বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে দুইশ’ টেস্ট খেলা টেন্ডুলকার ৩২৯ ইনিংস ব্যাট করে ৫১টি শতক ও ৬৮টি অর্ধশতকসহ ১৫ হাজার ৯২১ রান করে তার ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন।
ভারতকে আবার ব্যাটিং করাতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে আরো ২৭০ রান করতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সিরিজে ব্যাটিংয়ে মোটেও ভালো করতে না পারা অতিথি ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ ছিল না।
৪৩ রানে ৩ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় দিনের এক সেশনের বেশি টিকতে পারেনি।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল ‘হন্তারক’ ওঝা। দিনের শুরুতেই ক্রিস গেইল (৩৫), মারলন স্যামুয়েলস (১১) ও নরসিং দিওনারায়ণকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বড় জয়ের দিকে নিয়ে যান তিনি।
ভারতীয় ব্যাটিং-কিংবদন্তিকে আবার ব্যাটিংয়ে দেখার আশা ছিল খুব ক্ষীণ। অতিথিদের ইনিংস হার নয় টেন্ডুলকারের ব্যাটে জয় দেখতে চেয়েছিলেন ভক্তরা। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।
শিবনারায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে দীনেশ রামদিনের ৬৮ রানের জুটি ভেঙ্গে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এই অফস্পিনার চন্দরপলকে (৪১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে ভারতের সহজ জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
এরপরও রামদিন (অপরাজিত ৫৩) প্রতিরোধ চালিয়ে গেলেও ওঝা ড্যারেন স্যামিকে, অশ্বিন শেন শিলিংফোর্ডকে এবং এই সিরিজেই অভিষিক্ত মোহাম্মদ সামি গ্যাব্রিয়েলকে ফিরিয়ে দিলে ১৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মাঝে দর্শকদের দাবিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮টি উইকেট পড়ার পর বোলিংয়ে টেন্ডুলকারকে এনেছিলেন ধোনি। তবে দুই ওভার বল করলেও কোনো উইকেট পাননি ব্যাটিং কিংবদন্তি।
৪৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার ম্যাচ সেরা ওঝা। প্রথম ইনিংসেও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ৪০ রানের খরচায়। তবে এই বাঁহাতি স্পিনারের ম্যাচে দশ উইকেট শিকার এই প্রথম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮২ (পাওয়েল ৪৮, ব্রাভো ২৯; ওঝা ৫/৪০, অশ্বিন ৩/৪৫) ও ১৮৭ (গেইল ৩৫, পাওয়েল ৯, বেস্ট ৯, ব্রাভো ১১, স্যামুয়েলস ১১, চন্দরপল ৪১, দিওনারায়ণ ০, রামদিন ৫৩*, স্য্যামি ১, শিলিংফোর্ড ৮, গ্যাব্রিয়েল ০; ওঝা ৫/৪৯, অশ্বিন ৪/৮৯, সামি ১/২৮)

ভারত প্রথম ইনিংস: ৪৯৫ (বিজয় ৪৩, ধাওয়ান ৩৩, পুজারা ১১৩, টেন্ডুলকার ৭৪, কোহলি ৫৭, রোহিত ১১১, ধোনি ৪, অশ্বিন ৩০, ভুবনেশ্বর ৪, ওঝা ০, সামি ১১; শিলিংফোর্ড ৫/১৭৯, দিওনারায়ণ ২/৪৫, গ্যাব্রিয়েল ১/৮৫, বেস্ট ১/৯৩)

ম্যাচ সেরা: প্রজ্ঞান ওঝা।

সিরিজ সেরা: রোহিত শর্মা।

শেয়ার