বিভীষিকা স্মৃতি মনে করে আজও আঁতকে উঠে শরণখোলার মানুষ

shoron
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ আজ ভয়াল সেই ১৫ নভেম্বর! সুপার সাইক্লোন সিডরের ষষ্ঠতম বর্ষপূর্তি। ২০০৭ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করি এই ঘূর্ণিঝড়টি অগ্নিমুর্তি ধারন করে আঘাত হানে দক্ষিণের জনপদে। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। এর মধ্যে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাগেরহাটের শরণখোলা। ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ছুঁটে আসা ঝড় আর বলেশ্বর থেকে ধেয়ে আসা পাহাড় সমান জলোচ্ছ্বাস উপজেলাটিকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করে। চারিদিকে শুধু হাহাকার আর স্বজন হারানোর আহাজারি। বিভীষিকাময় সেই দিনটির দুর্বিসহ স্মৃতি মনে পড়লে এখও গুমরে কেঁদে ওঠেন স্বজনহারানো মানুষেরা।
সেদিন নিষ্ঠুর সিডর কেড়ে নেয় সহ¯্রাধিক মানুষের প্রাণ। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা, মাঠের ফসল নিশ্চিহ্ন করে দেয়। মানুষ আর পশুপাখির লাশ একাকার হয়ে ভাসতে থাকে নদী, খালবিল আর ফসলের মাঠে। প্রতিবছর বেসরকারি বিভিন্ন স্বেচ্ছ্বাসেবি সংগঠন নানা আয়োজনে ‘সিডর’ দিবসটি পালন করে থাকে। নিহতদের স্মরণে ঘরে ঘরে কোরআন খানি, মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সেরকম প্রস্তুতি চলছে এবারেও।
দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দাতাসংস্থা ও হৃদয়বান মানুষেরা। নতুন করে বাঁচবার স্বপ্ন দেখায় ধ্বংসস্তুপ হতে ফিরে আসা মানুষদের। তারা খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা করে দেয়। বাংলাদেশ সরকার ও দেশি-বিদেশি দাতাদের সহায়তায় সিডর দুর্গতরা ধীরে ধীরে ক্ষতি পুষিয়ে উঠলেও শরণখোলাবাসীর প্রাণের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ আজও নির্মান হয়নি। একারনে ১৫ নভেম্বর এলেই সিডরের ভয়াবহতার কথা মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। ্এমনকি নদীতে পুর্নিমার জোয়ার এলেও মানুষ সিডরের কথা মনে করে ছোটা ছুটি করে সাইক্লোন শ্লেটারে।
শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন আকন বলেন, সিডরের পর থেকে আজঅবদি আমরা একটি টেকসই বেড়িবাঁধ ও রায়েন্দা শহর রক্ষাবাঁধের দাবি জানিয়ে আসছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ছুঁটেছি। অবশেষে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু কাজের তেমন কোনো অগ্রতি নেই। কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টেকসই বেড়িবাঁধ থাকলে সিডরে এতো প্রাণ আর সম্পদ হারাতে হতোনা।

শেয়ার