৮৪ ঘণ্টার হরতালে ৫০টি গাড়িতে আগুন

fire
বাংলানিউজ ॥
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও টানা হরতালে অচল অবস্থা দেখা দিয়েছে দেশের পরিবহন খাতে। বিগত ৮৪ ঘণ্টার হরতালে সারাদেশে অন্তত ৫০টি গাড়িতে আগুন ও শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিবহন ব্যবসা ভয়াবহ লোকসানে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। হরতাল ও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
আর এভাবে হরতাল চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে বলেও ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরোধী দলের ডাকা ৮৪ ঘণ্টার হরতাল চলাকালে সারাদেশে অন্তত ৫০টি বাস ও ট্রাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েক শতাধিক গাড়ি। এতে মালিকপক্ষের কয়েক শত কোটি টাকার যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। এর সঙ্গে পন্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসে আগুনের ঘটনায় লোকসান হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ। হরতালে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ডজন খানেক মানুষ দগ্ধ হয়েছেন।
হরতালের কারণে যে লোকসান হচ্ছে তার ক্ষতিপূরণ করতে না পেরে অনেক মালিকই পরিবহন ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।
পরিবহন ব্যবসায়ী আলহাজ আব্দুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবহন ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে লোন নিয়ে গাড়ি কেনেন। এজন্য তাদের একটি নিদির্ষ্ট পরিমাণ অর্থ মাসিক হারে ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হরতালের কারণে গাড়ি চালাতে না পেরে অনেক মালিকই তাদের লোন পরিশোধ করতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, হরতালে আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় মালিকপক্ষের যেমন লোকসান হচ্ছে পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে জনদুর্ভোগ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সচিব এনায়েত উল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, গত ৮৪ ঘণ্টার হরতালে সারাদেশে প্রায় ৫০টি বাস ও ট্রাকে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা।
হরতালে দেশের পরিবহন সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা বাস ও মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ সদুর বাংলানিউজকে জানান, হরতাল দেওয়া হয় দাবি আদায়ের জন্য। কিন্তু হরতালের নামে যেভাবে গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে এতে মনে হচ্ছে গাড়ি পোড়ানোর জন্য হরতাল ডাকা হচ্ছে।

শেয়ার