হরতাল শ্রমিকদের পেটে লাথি, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

lathi
বাংলানিউজ ॥ এক দানে চল্লিশ টাকা। যে দলই জিতুক খেলা শেষে টাকা দিয়ে একসঙ্গে ঝাল মুড়ি কিনে খাওয়া হবে। এভাবে হিসাব কষে দু’জন করে দুই দলে বিভক্ত হয়ে লুডু খেলায় মেতে উঠলেন জসিম (৩৫), রাশেদ (৩৮), মনির (৪২) ও সোহেল (৩১)। খেলা শুরু হয়ে গেল। পাশে বসে উপভোগ করছে ফালু ও নারায়ণ ।
বুধবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের চতুর্থ ও শেষ দিন রাজধানীর কাওরান বাজারের পাশের পান্থকুঞ্জ পার্কে এমনই দৃশ্য দেখা মিলল। লুডু খেলার খেলোয়ার আর দর্শক সবাই রিক্সা চালক। রিক্সা চালিয়েই সংসার চালান তারা। কাওরান বাজার পাশের রেললাইনের ধারের বস্তিতে পরিবার নিযে বসবাস এই চার রিক্সা চালকের। চলমান হরতালে যাত্রী কম ও তাই আয়ও কম। এই এলাকার আশেপাশেই রিক্সা চালান তারা। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও যাত্রী না পাওয়ায় পাশের পার্কে বসে রাশেদের সঙ্গে থাকা লুডুর প্যাড ও গুটি নিয়ে প্রত্যেকে ১০ টাকার বাজিতে মেতে উঠলেন লুডু খেলায়। অবসরে এই খেলাই তাদের বিনোদনের উৎস।
কাওরান বাজারে হরতালের অ্যাসাইনমেন্ট থাকায় পাশের পার্কে ঢু মারতে গিয়েই দেখা হয় এই ৬ জনের সঙ্গে।
সোহেল জানায়, ‘কি কমু ভাই, নেতারা কেন যে হরতাল দেয় বুঝি না। হেগোতো কোন সমস্যা নাই, সমস্যা হয় আমাগো। মালিকের কাছ থেকে দিন ৩০০ টাকায় রিক্সা ভাড়া নিই, হরতাল না থাকলে ৫০০/৬০০ টাকার মতো কামাই হলে হাতে ২০০/৩০০ টাকা থাকে। তাই দিয়েই সংসার চালাই। কিন্তু হরতাল হলে ৩০০ টাকাই কামাই করতে পারি না। তারপরেও আশা নিয়ে বাইর হই। সংসারতো চালাইতে হবো।’
রাশেদ জানায়, ‘সেই সকাল সাড়ে ৫ টায় বাইর হইছি, এখন বাজে সাড়ে ১১ টা, কিন্তু ১০০ টাকাও কামাতে পারি নাই। হরতালের ভয়ে মানুষ বের হতে চায় না, তাই বলতে পারেন হরতালে আমাদের পেটে লাথি মারছে।’
রাশেদ আক্ষেপ করে আরো বলেন, ‘হরতালে জান হাতে করে রিক্সা নিয়া বাইর হই। জানি না কখন মিছিল বাইর হবে, কখন ককটেল ফোটবে, আর আমাদের উপর লাঠি নিয়ে হামলা হবো। রাতে ঘরে ফেরার আগপর্যন্ত কোন ভরসা নাই। পরিবারের সবাই খুব ভয়ে থাকে। কিন্তু কি করুম, পেটের টানে বাইর হইতেই হয়।’
খেলা উপভোগ করতে থাকা ফালু আর নারায়ণ বলেন, ‘হরতালে ইনকাম হোক আর নাই হোক, মালিকরে রিক্সার ভাড়া বুঝাইয়া দিতেই হবে। ভাড়া না দিলে কাল আর রিক্সা দিবো না। দিনের বেলা যদিও ২শ’/৩শ’ টাকা কামাই হয়, রাতের বেলা তাও হয় না।’ সন্ধ্যার পরে মানুষ পাওয়াই যায় না। যাও পাওয়া যায়, দূরের যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই আয়ও হয় না। রিক্সার মালিকের কাছে ভাড়া বুঝায় দিয়া হাতে টাকা থাকে না। খালি হাতে বাসায় ফিরতে হয়। পরিবারের জন্য খাবার কেনার টাকাও থাকে না। তাই হরতার মানে আমাগো মতো রিক্সাওয়ালাদের মরণ।’
তাদের সবারই এক কথা, যদি একদিন হরতাল দিলে দেশের কোন পরিবর্তন হতো তবুও কথা ছিলো, কিন্তু বার বার হরতাল দিয়েও তো কোন লাভ হচ্ছে না। তাই হরতাল করে এদের লাভ কি। তার চেয়ে বরং সব দল এক সাথে বসে দেশের জন্য যা করলে ভালো হয়, তাই যেন করে রাজনীতিকরা। গরীদের পেটে লাথি মারার কোন কাজ করলে তো গরীবরা বেঁচে থাকতে পারবে না।
এদিকে দুপুরে দিকে ফার্মগেটের ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশে আনোয়ারা পার্কেও সকাল থেকে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। স্কুল চলাকালে এই সময়ে কেন ক্রিকেট খেলছে জানতে চাইলে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, বন্ধের দিন না হলেও হরতালের কারণে স্কুল-কোচিং বন্ধ, কোন ক্লাশ নেই তাই বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছি।
হরতালে পড়ালেখা ক্ষতি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ফয়সাল জানায়, ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। জেএসসি পরীক্ষার কারণে এমনিতেই ক্লাশ হচ্ছে না। আর হরতালের কারণে শিক্ষকদের বাসা বা তাদের কাছেও যেতে পারি না। তাই পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে।
রনি নামের ক্লাশ টেনের এক শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে জানান, তার ছোটবোন জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। হরতালের কারণে বার বার পরীক্ষার ডেট পিছিয়ে যাচ্ছে। কবে কোন পরীক্ষা হবে, তাও সে জানে না, তাই পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে তার সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। বার বার পরীক্ষার ডেট নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় মনের মতো প্রস্তুতি না নিতে পারায় তার বোন হতাশায় ভুগছে বলে জানান রনি।
বাংলানিউজ॥ এক দানে চল্লিশ টাকা। যে দলই জিতুক খেলা শেষে টাকা দিয়ে একসঙ্গে ঝাল মুড়ি কিনে খাওয়া হবে। এভাবে হিসাব কষে দু’জন করে দুই দলে বিভক্ত হয়ে লুডু খেলায় মেতে উঠলেন জসিম (৩৫), রাশেদ (৩৮), মনির (৪২) ও সোহেল (৩১)। খেলা শুরু হয়ে গেল। পাশে বসে উপভোগ করছে ফালু ও নারায়ণ ।
বুধবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের চতুর্থ ও শেষ দিন রাজধানীর কাওরান বাজারের পাশের পান্থকুঞ্জ পার্কে এমনই দৃশ্য দেখা মিলল। লুডু খেলার খেলোয়ার আর দর্শক সবাই রিক্সা চালক। রিক্সা চালিয়েই সংসার চালান তারা। কাওরান বাজার পাশের রেললাইনের ধারের বস্তিতে পরিবার নিযে বসবাস এই চার রিক্সা চালকের। চলমান হরতালে যাত্রী কম ও তাই আয়ও কম। এই এলাকার আশেপাশেই রিক্সা চালান তারা। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও যাত্রী না পাওয়ায় পাশের পার্কে বসে রাশেদের সঙ্গে থাকা লুডুর প্যাড ও গুটি নিয়ে প্রত্যেকে ১০ টাকার বাজিতে মেতে উঠলেন লুডু খেলায়। অবসরে এই খেলাই তাদের বিনোদনের উৎস।
কাওরান বাজারে হরতালের অ্যাসাইনমেন্ট থাকায় পাশের পার্কে ঢু মারতে গিয়েই দেখা হয় এই ৬ জনের সঙ্গে।
সোহেল জানায়, ‘কি কমু ভাই, নেতারা কেন যে হরতাল দেয় বুঝি না। হেগোতো কোন সমস্যা নাই, সমস্যা হয় আমাগো। মালিকের কাছ থেকে দিন ৩০০ টাকায় রিক্সা ভাড়া নিই, হরতাল না থাকলে ৫০০/৬০০ টাকার মতো কামাই হলে হাতে ২০০/৩০০ টাকা থাকে। তাই দিয়েই সংসার চালাই। কিন্তু হরতাল হলে ৩০০ টাকাই কামাই করতে পারি না। তারপরেও আশা নিয়ে বাইর হই। সংসারতো চালাইতে হবো।’
রাশেদ জানায়, ‘সেই সকাল সাড়ে ৫ টায় বাইর হইছি, এখন বাজে সাড়ে ১১ টা, কিন্তু ১০০ টাকাও কামাতে পারি নাই। হরতালের ভয়ে মানুষ বের হতে চায় না, তাই বলতে পারেন হরতালে আমাদের পেটে লাথি মারছে।’
রাশেদ আক্ষেপ করে আরো বলেন, ‘হরতালে জান হাতে করে রিক্সা নিয়া বাইর হই। জানি না কখন মিছিল বাইর হবে, কখন ককটেল ফোটবে, আর আমাদের উপর লাঠি নিয়ে হামলা হবো। রাতে ঘরে ফেরার আগপর্যন্ত কোন ভরসা নাই। পরিবারের সবাই খুব ভয়ে থাকে। কিন্তু কি করুম, পেটের টানে বাইর হইতেই হয়।’
খেলা উপভোগ করতে থাকা ফালু আর নারায়ণ বলেন, ‘হরতালে ইনকাম হোক আর নাই হোক, মালিকরে রিক্সার ভাড়া বুঝাইয়া দিতেই হবে। ভাড়া না দিলে কাল আর রিক্সা দিবো না। দিনের বেলা যদিও ২শ’/৩শ’ টাকা কামাই হয়, রাতের বেলা তাও হয় না।’ সন্ধ্যার পরে মানুষ পাওয়াই যায় না। যাও পাওয়া যায়, দূরের যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই আয়ও হয় না। রিক্সার মালিকের কাছে ভাড়া বুঝায় দিয়া হাতে টাকা থাকে না। খালি হাতে বাসায় ফিরতে হয়। পরিবারের জন্য খাবার কেনার টাকাও থাকে না। তাই হরতার মানে আমাগো মতো রিক্সাওয়ালাদের মরণ।’
তাদের সবারই এক কথা, যদি একদিন হরতাল দিলে দেশের কোন পরিবর্তন হতো তবুও কথা ছিলো, কিন্তু বার বার হরতাল দিয়েও তো কোন লাভ হচ্ছে না। তাই হরতাল করে এদের লাভ কি। তার চেয়ে বরং সব দল এক সাথে বসে দেশের জন্য যা করলে ভালো হয়, তাই যেন করে রাজনীতিকরা। গরীদের পেটে লাথি মারার কোন কাজ করলে তো গরীবরা বেঁচে থাকতে পারবে না।
এদিকে দুপুরে দিকে ফার্মগেটের ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশে আনোয়ারা পার্কেও সকাল থেকে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। স্কুল চলাকালে এই সময়ে কেন ক্রিকেট খেলছে জানতে চাইলে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, বন্ধের দিন না হলেও হরতালের কারণে স্কুল-কোচিং বন্ধ, কোন ক্লাশ নেই তাই বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছি।
হরতালে পড়ালেখা ক্ষতি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ফয়সাল জানায়, ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। জেএসসি পরীক্ষার কারণে এমনিতেই ক্লাশ হচ্ছে না। আর হরতালের কারণে শিক্ষকদের বাসা বা তাদের কাছেও যেতে পারি না। তাই পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে।
রনি নামের ক্লাশ টেনের এক শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে জানান, তার ছোটবোন জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। হরতালের কারণে বার বার পরীক্ষার ডেট পিছিয়ে যাচ্ছে। কবে কোন পরীক্ষা হবে, তাও সে জানে না, তাই পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে তার সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। বার বার পরীক্ষার ডেট নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় মনের মতো প্রস্তুতি না নিতে পারায় তার বোন হতাশায় ভুগছে বলে জানান রনি।

শেয়ার