প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পোশাক ক্রেতারা

pm
বাংলানিউজ ॥
ক্ষোভ, অবরোধ আর হতাশা কাটিয়ে আবারও কাজে ফিরেছেন দেশের পোশাক কর্মীরা। বুধবার বেতন কাঠামো নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে পোশাক খাতে চলমান বিবাদের আপাতত মীমাংসা হয়েছে। আর এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ক্রেতা দেশগুলো। বিশেষ করে পোশাক মালিকদের অনড় অবস্থানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছে তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিষয়টির রফা হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে বুধবার থেকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপরে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনু ও বহির্প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার কাছে টেলিফোন করে এ বিষয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ওই রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ এবং পোশাক মালিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সংকট নিরসনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই টেলিফোনে ওই রাষ্ট্রদূত বলেছেন, পোশাক শিল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপ ক্রেতা গোষ্ঠীকে ইতিবাচক বার্তা দেবে। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের এতো দিনের আন্দোলনের নির্দিষ্ট বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ আন্দোলন এবং কর্মবিরতির পর গত ৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের সভায় পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হলেও গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধিরা তাতে আপত্তি জানিয়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান।
পরে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের ওই অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের পোশাক খাতের নেই।
মালিকপক্ষ ওই মজুরি মেনে না নেওয়ায় সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে গত কয়েক দিন ধরেই শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বুধবার আশুলিয়ার সব কারখানা বন্ধ ছিল।
এর পরেই বুধবার রাতে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পোশাক কারখানার মালিকেরা ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা দিতে রাজি হয়েছেন।
অন্যদিকে মালিকেরা যেসব দাবি করেছেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে কমনওয়েলথ শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কা গেছেন।

শেয়ার