নিজের টেস্টে মঞ্চে টেন্ডুলকার

tendulcar
সমাজের কথা ডেস্ক॥ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামপূর্ণ দর্শকরা যা দেখতে চেয়েছেন শেষে তাই হয়েছে। বিদায়ী টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮২ রানে অলআউট হওয়ার পর তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার।
টেন্ডুলকারময় মুম্বাই টেস্টে তার চিত্রখচিত সোনার মুদ্রা দিয়ে করা টসে জিতে উইকেটের চরিত্র বুঝে ফিল্ডিংই বেছে নেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ড্যারেন সামি জিতলেও তাই করতেন। কিন্তু দর্শকদের তা বোঝাবে কে? তারা টেন্ডুলকারকে ব্যাট করতে দেখতে চান।
দর্শকদের দাবি অনুযায়ী ব্যাটিং করে সে সুযোগ করে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরাই। টেন্ডুলকারের জন্যই তো তাদের ভারত সফরে আসা। কৃতিত্ব অবশ্য দুই স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। তাদের ঘুর্ণিতে ১৮২ রানে অলআউট অতিথিরা।
তৃতীয় সেশনে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে আক্রমণাত্মক সূচনা এনে দিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান ও মুরালি বিজয়। ২৮ বলে ৩৩ রান করে ধাওয়ান শেন শিলিংফোর্ডের শিকারে পরিণত হলে ভাঙ্গে ৭৭ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এক বল পরেই বিজয় (৪৩) ড্যারেন স্যামির হাতে ক্যাচ দিলে হতাশার বদলে উল্লসিত হয়ে উঠে পুরো স্টেডিয়াম। স্টেডিয়াম জুড়ে ‘শচীন’ রবের মধ্যে ব্যাট করতে নামেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি। এ সময় মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে সম্মানিত করেন টেন্ডুলকারকে।
কলকাতায় একমাত্র ইনিংসে দশ রানের বেশি করতে পারেননি টেন্ডুলকার। জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভক্তদের আর হতাশ করেননি তিনি। তৃতীয় উইকেটে চেতেশ্বর পুজারার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি গড়েছেন টেন্ডুলকার। দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৫৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে মাত্র ২৫ রান পিছিয়ে তারা।
প্রথম দিন একশ’ মিনিটের মতো ক্রিজে ছিলেন টেন্ডুলকার। এ সময় তিনি ধ্রুপদী কাভার ড্রাইভ থেকে শুরু করে তার সিগনেচার শটের কয়েকটি খেলেছেন। বিশাল পর্দায় বারবার মা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যার ছবি দেখানো হলেও মনোসংযোগ হারাননি।
অনায়েসে পাঞ্চ করে পাওয়া চার রান সেরা ছন্দের টেন্ডুলকারকেই মনে করিয়ে দিয়েছে। তার ইনিংস গঠন আর সাবলীল ব্যাটিং অনেক ভক্তের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে, এখনই কেন অবসরের ঘোষণা।
দিনশেষে ৭৩ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৮ রানে অপরাজিত টেন্ডুলকার। তার সঙ্গী পুজারা অপরাজিত ৩৪ রানে।
ক্রিকেটের মহাতারকার বিদায়ী টেস্টের প্রথম দিনের নায়ক অবশ্য প্রজ্ঞান ওঝা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ষষ্ঠ ওভারেই ক্রিস গেইলকে (১১) ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন মোহাম্মদ সামি। দ্বিতীয় উইকেটে ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন কাইরন পাওয়েল।
মধ্যাহ্ন-বিরতির কিছুক্ষণ আগে ব্রাভোকে (২৯) ফিরিয়ে দিয়ে ১৮.৪ ওভার স্থায়ী প্রতিরোধ ভাঙ্গেন অফস্পিনার অশ্বিন।
২ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় সেশনে ৮৯ রান যোগ করতেই বাকি ৮ উইকেট হারানোয় দুইশ’ পর্যন্তও যেতে পারেনি।
মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফিরেই উইকেট-শিকার শুরু করেন বাঁহাতি স্পিনার ওঝা। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করা পাওয়েল তার প্রথম শিকার। পঞ্চম উইকেটে শিবানরায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেয়া মারলন স্যামুয়েলস (১৯) বিদায় করে বড় একটা ধাক্কা দেন অতিথিদের।
টেন্ডুলকারের বিদায়ী টেস্টের কারণে একটু আড়ালেও থাকলেও দলের বিপদে বড় ইনিংস খেলে পাদপ্রদীপের আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিল দেড়শ’তম টেস্ট খেলা চন্দরপলের সামনে। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমারের বলে অশ্বিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ২৫ রান করে সাজঘরে ফিরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
চন্দরপলের বিদায়ের পর আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন নরসিং দিওনারায়ণ। তবে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। বিদায় নেয়ার আগে ২৪ বলে ২১ রান করেন তিনি।
দিওনারায়ণের বিদায়ের পর বেশিদূর এগোয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। শেষ চার ব্যাটসম্যানের তিনজনই সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে। ১২ রানে অপরাজিত থেকে যান দীনেশ রামদিন।
৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার ওঝা। ২৪ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ছ’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। ৪৫ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন অশ্বিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ১৮২ (গেইল ১১, পাওয়েল ৪৮, ব্রাভো ২৯, স্যামুয়েলস ১৯, চন্দরপল ২৫, দিওনারায়ণ ২১, রামদিন ১২*, স্যামি ০, শিলিংফোর্ড ০, বেস্ট ০, গ্যাব্রিয়েল ১; ওঝা ৫/৪০, অশ্বিন ৩/৪৫, সামি ১/৩৬, ভুবনেশ্বর ১/৪৫)
ভারত প্রথম ইনিংস: ১৫৭/২ (বিজয় ৪৩, ধাওয়ান ৩৩, পুজারা ৩৪*, টেন্ডুলকার ৩৮*; শিলিংফোর্ড ২/৪৬)

শেয়ার