দাকোপে থানা পুলিশ বন বিভাগের আটক বাণিজ্য ॥ চলছে প্রতিপক্ষ দমনের মিশনও

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার দাকোপ থানা পুলিশ এবং বনবিভাগের বির্তর্কিত কর্মকান্ডে হয়রাণির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অভিযানের নামে মহল বিশেষের প্ররোচনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া এমন কয়েকটি ঘটনায় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৮নভেম্বর বিকেল ৫টায় চালনা বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় দাকোপ থানার এসআই রহমত আলীর নেতৃত্বে এক বির্তর্কিত অভিযান পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র মতে, ওই দিন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার নিহাল কাঠগোলা এবং আছাভূয়া এলাকায় একই সময় পৃথক দু’টি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পুলিশ দু’টি স্থান থেকে জ্বালানী কাঠ আটক করে। এ ঘটনায় খোকন সরদার নামে এক জ্বালানী কাঠ ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অন্যদিকে আছাভূয়া এলাকার আবু বক্কর এর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কাঠ পরিত্যক্ত দেখানো হয়। অভিযোগ মতে অভিযানের পর পুলিশ মহল বিশেষের প্ররোচনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে খোকনকে আটক করে। পক্ষান্তরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত অভিযুক্ত আবু বক্করকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশ্যে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
সূত্র মতে ঘটনার সময় সুন্দরবন ফেরত ১৯টি নৌকায় কয়েক’শ মন কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী কাঠসহ মাঝিদের পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে বিশেষ ওই মহলের মধ্যস্থতায় ২০হাজার টাকার বিনিময়ে কাঠসহ তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে আটক খোকন চালনা বাজারের একজন স্বীকৃত দেশীয় জ্বালানী কাঠ ব্যবসায়ী। সে একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ঘটনার সময় খোকন খুলনায় ওই সংগঠনের জেলা সম্মেলনে উপস্থিত ছিল। অভিযোগ মতে, সন্ধ্যার পর খোকন চালনায় ফেরার সাথে সাথে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করে ওই মহলের মধ্যস্থতায় দেনদরবার চলে। কিন্তু খোকনের পরিবার ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরেরদিন তাকে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে বনবিভাগের সুতারখালী স্টেশনের ডেপুটি রেঞ্জার জাকারিয়া বাদী হয়ে খোকন সরদারকে আসামি করে এবং জনৈক আবু বক্কারকে পলাতক ও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে বন আইনে মামলা দায়ের করে। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন ধৃত আসামিসহ অপরাপর আসামিরা সুন্দরবন থেকে নিজেরা কাঠ কেটে এনে জ্বালানী সাইজ করার পর আটক করা হয়। এছাড়া পুলিশের অভিযানকে নিজেদের অভিযান হিসেবে অভিযোগে দাবি করা হয়। অথচ অভিযানের পর ২৪ ঘন্টা সময় পর্যন্ত বনবিভাগ কিছুই জানেনা। তাছাড়া আটক খোকন সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে প্রকাশ্যে ব্যবসা করে। অভিযানের সময় দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্টেশনে না থাকায় এসআই রহমত আলীর নিকট ১৯টি কাঠসহ নৌকা পুলিশ হেফাজাত থেকে কিভাবে গেল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ঘটনায় জড়িত মহল বিশেষের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কথার ফাকে কোন সময় তারা চলে যায় বিষয়টি আমরা বুঝতে পারিনি। মামলার বাদী বনকর্মকর্তা জাকারিয়ার নিকট অভিযানে তার উপস্থিতি এবং আসামি খোকন সরদার গ্রেফতার নাটকের বিষয় জানতে চাইলে এক পর্যায়ে তিনি মোবাইলে বলতে অপারগতা প্রকাশ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অনুরুপভাবে এ ঘটনার কয়েকদিন আগে চালনা বাজারের এক হোটেল ব্যবসায়ী ও একটি ধর্মীয় স্পর্শকাতর ইস্যুতে পুলিশের গ্রেফতারের বিষয়ে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার