টানা হরতালের প্রভাব কাচা বাজারে অস্বস্তিতে ক্রেতা

torkare
ইন্দ্রজিৎ রায়॥
টানা ৮৪ ঘন্টার হরতালের প্রভাব পড়েছে যশোরের সবজির বাজারে। চার দিনের ব্যবধানে প্রত্যেক সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে নি¤œ আয়ের মুনষের দুর্ভোগের শেষ নেই। যশোরের সবজির জোন হিসেবে পরিচিত বারীনগর এলাকায় উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও বাজারে সবজি সরবারহ করেত পারেনি চাষীরা। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে কৃষক। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হরতালের কারণে সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেশি। এতে সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
বুধবার যশোর শহরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড বাজার, রেলস্টেশনসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজির সরবারহ তুলনামূলক কম। ক্রেতা ভিড় ছিল অন্যদিনের তুলনা অপ্রতুল। তবে দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়।
চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী জানান, টানা হরতালের কারণে কাঁচামাল সরবরাহ কম। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন সবজি।
সেকেন্দার আলী জানান, হরতালের আগের ৪০টাকার বেগুন ৫০টাকায়, ৫০টাকার শিম ৬০টাকায়, ২৫টাকার কলা ৩০টাকায়, ৮০টাকার কাচা ঝাল ৯০টাকায়, ১২ টাকার পেঁপে ২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বেশির ভাগ সবজির দাম ২টাকা থেকে ৫টাকা পর্যন্ত কেজিতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বড় বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মসলেম উদ্দিন বলেন, হরতালের কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা চাহিদামত কাঁচামাল আনতে পারছে না। তাই জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা বাজারের আরেক সবজি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, তুলনামূলকভাবে উৎপাদন কম। আবার এক টানা হরতাল দেয়া হচ্ছে। এতে চাহিদা বেশি থাকলেও আমরা সবজি বাজারে তুলতে পারছি না। এজন্য সবজির দাম বেশি।
রিকসা চালক হায়দার আলী বলেন, আয়ের তুলনা খরচ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শুধু ডাল ভাত তার পরিবারের খাবার। তরকারি কিনতে পারেননি।
চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতা আফজাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে। হরতালের মত কর্মসূচি সাধারণ মানুষের ক্ষতি বেশি হচ্ছে।
রেলস্টেশন বাজারে কলেজ ছাত্র সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, মেসের বাজারের জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজেট থাকে। জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদেরকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

শেয়ার