শরণখোলায় বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব ॥ শতাধিক দোকান, ৩০টি বাস ও স্কুল ভাঙচুর

sharo
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ হরতালের তৃতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘন্টাব্যাপি তাণ্ডব চালিয়েছ। শিবির ও ছাত্রদলের কর্মীরা শতাধিক দোকানপাট, অন্তত ৩০ টি দূরপাল্লার পরিবহন ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে এক আওয়ামী লীগ নেতা আহত হয়েছেন। পুলিশ একজনকে আটক করেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে রাজৈর কলেজ মোড় থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান খানের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়েন্দা বাজারে প্রবেশ করে। প্রথমে ছাত্রদল ও শিবিরের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা রায়েন্দা বাজারের শতাধিক দোকানপাট ও মালামাল ভাঙচুর করে। এসময় বাজারের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। পরে মিছিলটি পাঁচরাস্তা বাদল চত্বরে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মিছিলকারীরা রায়েন্দা কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে পার্কিং করা ৩০টি পরিবহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এসময় খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন খানের মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও তাকে পিটিয়ে আহত করে। পরে ওলিদ তালুকদার (১৮) নামের একজনকে আটক করে পুলিশ।
রায়েন্দা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বাবুল হাওলাদার, ডালিম হাওলাদার ও ফল ব্যবসায়ী বাদল হাওলাদার জানান, মিছিলকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে বাজারের দোকানপাটে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মালামাল তছনছ করে। পর্যটক পরিবহন ও হামিম পরিবহনের কাউন্টার মালি যথাক্রমে একারামুল কবির কিসলু ও মিজানুর রাকিব জানান, হরতালের কারণে পরিবহনগুলো টার্মিনালে পাকিং করা ছিল। এসময় ছাত্রদল ও শিবিরের ক্যাডাররা ৩০টির মতো পরিবহন ভাঙচুর করে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত জানান, তাদের নেতৃত্বে মিছিল হলেও দোকানপাট ও পরিবহনে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা তারা জানেন না।
থানার উপ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত ওসি) এসআই নজরুল ইসলাম জানান, বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার