বাগেরহাটে জনসভায় শেখ হাসিনা ॥ জীবন দেব তবু জঙ্গিবাদের কাছে মাথা নত নয়

PM
কামরুজ্জামান/ লোকমান হোসেন/ কচুয়াপ্রতিনিধি॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বাগের হাট, মংলা এবং রামপাল সফর করেন। তার এই ঐতিহাসিক সফরে উল্লেথযোগ্য কর্মসূচি ছিল মংলায় খাদ্যগুদাম ্এবং মীর সাখাওয়াত আলী দারু সেতুসহ ৩১ টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্ধোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। যাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এ উপলক্ষে বাগেরহাট খানজাহান আলী কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,বিএনপি-জামায়াত জনগনের রাজনীতি করেনা তারা চোরা গোপ্তা হামলা করে মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন জীবন দিতে প্রস্তুত আছি তবু সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কাছে মাথা নত করবোনা। ওরা শুধু জানে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্ণীতি, লুটপাট ও মানিলন্ডারিং। এই বিএনপি-জামায়াতের সাথে এখন জুটেছে হেফাজত। ওরা ইসলামের নামে রাজনীতি করে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছে। ওদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আমাদের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। সেখানেও তারা ভাংচুর চালিয়েছে-আগুন দিয়েছে। শত-শত পবিত্র কোরআন শরীফ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের আমলে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের দারিদ্রতার হার ৪০ ভাগ থেকে কমিয়ে ২৬ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দ্রব্যমূল্য এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। একজন দিনমজুর তার একদিনের শ্রমের টাকা দিয়ে ১০ কেজি চাল কিনতে পারছেন। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৪৪ ডলার।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে মংলা বন্দরসহ বাগেরহাট জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া সকল উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। বাগেরহাটকে তারা রক্তাক্ত জনপদে পরিনত করে। শেখ হেলালের নির্বাচনী জনসভায় বোমা মেরে ৮ জনকে হত্যা করে। এছাড়া সংখ্যালঘু নেতা এ্যাডভোকেট কালীদাস বড়াল ও বাগেরহাট জেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান খান ছাদেকুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করে। ওদের আমলে (২০০১ থেকে ২০০৬) সারাদেশে ২২ হাজার মানুষকে তারা হত্যা করেছে। তিনি বলেন, দেশের জন্য আমার বাবা জীবন দিয়েছে। এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য দেশবাসীকে নিয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাব।
প্রাধানমন্ত্রী তার বাগেরহাটের জনসভার ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ফের মংলা বন্দরকে সচল করেছে। এখন মংলা বন্দর থেকে দেশের আমদানি-রপ্তানির ৪০ ভাগ মংলা বন্দর দিয়ে হচ্ছে। বাগেরহাট লবনাক্ত এলাকা এখানে সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। তা দূর করতে বিভিন্ন জায়গায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় এলে বাগেরহাটে সুপেয় পানির কোন অভাব হবেনা। তিনি বিরোধী দলের অযৌক্তিক হরতাল আহবান নিয়ে জাতির কাছে প্রশ্ন রাখেন, উনি (খালেদা) কোমলমতি শিশুদের জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বন্ধ করতে কেন হরতাল ডেকেছেন? উনি নিজে মেট্রিক ফেল তাই দেশের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে শিক্ষিত হোক তা তিনি চাননা। অথচ আমরা ক্ষমতায় এসে ১শ ১৯ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি ও উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রাথমিক থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলকসহ মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করবো। দেশের আগামী প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজকে সরকারিকরণ করা হবে। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে নির্বাচনী অঙ্গিকার পূরণ করেছি। আগামীতে ্ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ভিশন ২০-২১ বাস্তবায়ন করে দেশবাসীকে নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করব। এজন্য তিনি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার জন্য বাগেরহাটবাসীর কাছে ভোট চান।
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহম্মেদ এমপি, বঙ্গবন্ধুর ভাতিজা শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, এ্যাড. মীর শওকত আলী বাদশা এমপি, এম এ আউয়াল এমপি, সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশীদি সুজা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইফুজ্জামান শেখর, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি হাওলাদার মোহম্মদ বদিউজ্জামান সোহাগ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু, ছেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর জায়েসী আশরাফী জেমস প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে এসে পৌছে প্রথমে কচুয়ায় বলেশ্বর নদীর উপর নির্মিত মীর সাখাওয়াত আলী দারু সেতুসহ ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও সাইনবোর্ড-মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১১ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুরে বাগেরহাটের মংলায় সুন্দরবনের পাদদেশে জয়মনিরঘোলে ৪২ একর জমির উপর ৫শ ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খাদ্য বিভাগের নির্মাণাধীন ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন (খাদ্য গুদাম) সাইলো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দেশের বৃহত্তম এই সাইলো উদ্বোধন শেষে সেখানে সুধী সমাবেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশকে শুধু ধ্বংস করে,-আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়। দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে আওয়ামী লীগকে আবারও ভোট দেওয়ার জন্য তিনি আহবান জানান। আওয়ামী লীগ পুনরায় নির্বাচিত হতে পারলে মংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের সুযোগ সুবিধাসহ আধুনিকায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার হাবিবুন নাহার, খাদ্য মন্ত্রাণালয়ের সচিব মুশফেকা ইকফাৎ বক্তৃতা করেন।

শেয়ার