সুন্দরবনের রাস মেলাকে ঘিরে প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

rashmela
বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ সুন্দরবনের দুবলার চরে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব শুরু হচ্ছে ১৫ নভেম্বর। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উৎসব সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে বন বিভাগসহ আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বিভিন্ন সংস্থা নানা পদপে গ্রহণ করেছে।
বনবিভাগের প থেকে বলা হয়েছে, এবার হরিণ শিকার রোধ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বন বিভাগ ও উৎসব আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মেজর (অব:) জিয়া উদ্দিন জানান, প্রায় শত বছর ধরে বঙ্গোপসাগর কূলে সুন্দরবনের দুবলার চরে আলোর কোল নামক স্থানে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলা কার্ত্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার তিথিতে এ রাস উৎসব উদযাপিত হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীরা এ সময় পূর্ণিমার জোয়ারের লোনা পানিতে স্নান করে তাদের পাপ মোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস উৎসবে যোগ দিলেও, কালের বিবর্তনে এখন তা নানা ধর্ম-বর্ণের লোকেদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। আবাল-বৃদ্ধ বনিতা সবার পদচারণায় মূখর হয়ে উঠে এ মেলা পরিণত হয় এক মিলন মেলায়। তিনি আরো জানান, দুবলার চরের মেলায় লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা যোগে তীর্থ যাত্রী ও দর্শনার্থীরা এসে সমবেত হয় দেশের প্রত্যান্ত এলাকা থেকে। সেই সাথে আসে অসংখ্য বিদেশী পর্যটকও। উৎসবের সময় কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। এ ছাড়া, নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আযোজন করা হয়। এবারো বেশ জমজমাটভাবে মেলা উদযাপনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এ্যাসোসিয়েশন মংলা শাখার কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার জানান, ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া রাস উৎসবে যোগ দিতে ইতিমধ্যে অনেক ট্যুরিষ্টদেরকে লঞ্চ ও বোট বুকিং দেওয়া হয়েছে । অনেকে আবার বুকিং না পেয়ে, হতাশ হয়ে পড়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও আমীর হোসেন চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের দুবলারচরে ১৫ হতে ১৭নভেম্বর রাস পূর্ণিমা পূর্ণ¯œান অনুষ্ঠিত হবে। রাস পূর্ণিমায় নিরাপদে তীর্থ যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ আটটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সকল পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনী তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
আটটি পথ হলো বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বলনদী-পাটকোষ্টা হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলারচর। কদমতলা হতে ইছামতি নদী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর। কৈখালী স্টেশন হয়ে মাদারগাং, খোপড়াখালী ভাড়ানী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়–য়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী/চাঁদপাই স্টেশন হয়ে পশুর নদী দিয়ে দুবলারচর, বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। শরণখোলা স্টেশন-সুপতি স্টেশন-কচিখালী- শেলার চর হয়ে দুবলার চর।
এবার হরিণ শিকার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হরিণের অবাধ বিচরণ সুন্দরবনের এমন ১৬টি স্পর্শকাতর পয়েন্ট বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় মেলা শুরু হবার আগেই নজরদারি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীরা ১৫ হতে ১৭ নভেম্বর তিন দিনের জন্য অনুমতি পাবেন এবং প্রবেশের সময় এন্ট্রি পথে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত একটি মাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং শুধু মাত্র দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবেন। যাত্রীরা বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানোর সুযোগ পাবেন না।
তিনি আরো বলেন, পূণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট হতে প্রাপ্ত সনদপত্র সাথে রাখতে হবে। পরিবেশ দূষণ করে এমন বস্তুু , মাইক বাজানো, পটকা ফোটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে হবে ।

শেয়ার