সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত শতাধিক, দুইশ’ কারখানায় ছুটি

garment
বাংলানিউজ॥ মজুরি বোর্ড ঘোষিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সাভারের বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ-পথচারী-শ্রমিকসহ আহত হন শতাধিক।
মঙ্গলবার সকালের এ ঘটনায় দুই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কাজে যোগ না দিয়ে শ্রমিকরা বাইশমাইল, আব্দুল্লাহপুর ও বিশমাইল জিরাবো সড়কের আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেলসহ রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিক-পথচারী ও শ্রমিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, মজুরি বোর্ডের ঘোষিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে সকাল ৮টা থেকে আশুলিয়ার জামগড়া, বেরন, সরকার মার্কেট, নরসিংহপুর, জিরাব, কাঠগড়া, শিমুলতলা, ইউনিক, পলাশবাড়ী, চক্রবর্তী, জিরানী বাজার ও বাংলাবাজারসহ পুরো শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের জামগড়া শিমুলতলা, ছয়তলা ও সরকার মার্কেটসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। তারা টহলরত পুলিশ সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত যানবাহনসহ অর্ধ শতাধিক যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করেন। এ সময় শ্রমিকদের ইট-পাটকেলে যাত্রী, পথচারী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরাতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জসহ জলকামান ব্যবহার করে।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিল্পাঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হলে প্রায় দুইশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষুব্ধরা বাংলানিউজকে জানান, মালিকপক্ষ তাদের নতুন বেতন কাঠামো না মেনে নেওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরে যাবেন না। পুলিশ দিয়ে তাদের আন্দোলন ধমিয়ে রাখতে পারবে না সরকার বা মালিকপক্ষ।
শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে না নেওয়ার কারণে প্রতিদিনই শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবারও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দাবি আদায়ে বিভিন্ন কারখানা ও মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই।
এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ কারখানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশের জলকামান, সাজোয়া যান, রায়েটকার ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।

শেয়ার