রোমানিয়ায় তৈরি হল কৃত্রিম রক্ত

Blood
সমাজের কথা ডেস্ক॥ রোমানিয়ার ট্রানসিলভানিয়া নামটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে যে চরিত্রটির নাম সবার আগে মনে আসে, সেটি কাউন্ট ড্রাকুলা। রক্তখেকো ওই নিশাচরের আবাস্থল থেকেই এল রক্তবিষয়ক নতুন খবর। ট্রানসিলভানিয়ার ক্লুজ-নাপোকায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সাফল্যের সঙ্গে কৃত্রিম রক্ত তৈরি করতে পেরেছেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ম্যাশএবল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ছয় বছর ইঁদুরের উপর গবেষণার পর রোমানিয়ান গবেষক ড. রাডু সিলাঘি-দামিত্রেস্কু এবং তার দল কৃত্রিম রক্ত তৈরির ফর্মুলা পেয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, এ ফর্মুলাতে তৈরি রক্তটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে তারা কোনো পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া পাননি। এখন গবেষকদের লক্ষ মানুষের শরীরে এটির ব্যবহার যাচাই করে দেখা।

কৃত্রিম ওই রক্ত তৈরিতে হিমোগ্লোবিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে হেমেরাইথ্রিন, সামুদ্রিক পোকা থেকে নিষ্কাশন করা হয়েছে বিশেষ প্রোটিন এবং সেগুলোকে পানি ও লবণের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম রক্ত।

এতে হেমেরাইথ্রিন অক্সিজেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানানন্তর করে। তবে এর আগের কৃত্রিম-রক্ত পরীক্ষা হিমোগ্লোবিনের উপর নির্ভরশীল ছিল। হিমোগ্লোবিন এমন একটি বিশেষ প্রোটিন যা সকল প্রাণীর রক্তে অক্সিজেন স্থানান্তর করে। কিন্তু দেখা গেছে কৃত্রিম রক্তের হিমোগ্লোবিন জীবিত প্রাণীর দৈহিক এবং রাসায়নিক চাপ প্রতিরোধ করতে পারে না।

এক্ষেত্রে রোমানিয়ান গবেষকরা বলছেন হেমেরাইথ্রিন অনেক বেশি উপযুক্ত। কৃত্রিম রক্ত প্রসঙ্গে সিলাঘি-দুমিত্রেসু জানিয়েছেন, রক্তদানে সংক্রমনের যে ঝুঁকি থাকে তা কৃত্রিম রক্তের সাহায্যে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরও জানিয়েছেন, কয়েক দশক ধরে মানুষ সাময়িক বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম রক্ত তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বেশ অনেকগুলো দল এটি নিয়ে কাজ করছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় এরকম একটি পণ্য সীমিত সংখ্যক মানুষের উপর ব্যহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে গবেষক দলটি চেষ্টা করছে মানুষের উপর এটি পরীক্ষা করার জন্য রোমানিয়ার ক্লিনিকাল ট্রায়াল রেগুলেটরি এজেন্সির অনুমতি নিতে।

শেয়ার