বিশ্বের সবচেয়ে ফিনফিনে মানুষ

thin
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তাকে দেখলে যে কোনো মানুষের চোখ কপালে ওঠে যেতে বাধ্য। এত শুকনাও কি মানুষ হয়! যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ২৪ বছরের লিজি ভেলাজকুয়েজকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয় কম ওজনের মানুষ। পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার লিজির ওজন মাত্র চার স্টোন তিন পাউন্ড (১ স্টোন= ৬.৩৫ কেজি)। তাই বলে ভাববেন না যেন সে না খেয়ে না খেয়ে স্বাস্থ্যের এই হাল করেছে। আসলে এক বিরল রোগে ভুগছে সে।
এই বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে লিজির ওজন বাড়ে না এবং শরীরে কোনো চর্বি জমে না। ফলে বেঁচে থাকার জন্য তাকে দিনে অল্প অল্প করে ৬০ বার খেতে হয়। তবে নিজের এই অসুস্থতা নিয়ে লিজির কোনো অভিযোগ নেই। বরং নিজের ফিনফিনে দেহ সৌষ্ঠব নিয়ে ভালই আছে সে।
এক সাক্ষাৎকারে সে বলে, ‘সম্ভব হলেও নিজের ওজন বাড়াতাম না আমি। যদিও নিজের এই অবস্থায় অভ্যস্ত হতে আমার অনেক দিন সময় লেগেছে। তাই আয়নাতে আমি যে মানুষটাকে দেখি তাকে কখনো বদলাতে চাই না। কেবল ফিট থাকতে চাই।’
তবে লিজি চাইলেও তার ওজন বাড়াতে পারবে না। কেননা এ রোগে আক্রান্তদের মাংসপেশী এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুবই ক্ষীণ ও নাজুক হয়। এ কারণে এ রোগীরা শিশুকালেই মারা যায়। লিজি ছাড়া পৃথিবীতে আর মাত্র দু’জন এ ধরনের রোগী আছে। তার চিকিৎসক ডা. অভিমন্যু কার্জ বলেন, ‘লিজি হচ্ছে বিশ্বের সেসব বিরল মানুষদের একজন যে নাকি এ পরিস্থিতিতেও বেঁচে আছে। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সে টিকে আছে। সে একজন সাহসী নারী।’
জন্মের সময় লিজির ওজন ছিল মাত্র ২ পাউন্ড। ইতিমধ্যে তার এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। অন্যটি দিয়েও ভালো দেখতে পায় না। তাই বলে থেমে নেই লিজি। লেখা দুটি বই হটকেকের মতো বিক্রি হয়েছে। এছাড়া একজন সুবক্তা হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। বছরে ২শ’ বক্তৃতা দেয় সে। এসব বক্তৃতায় নিজের ছেলেবেলা, স্কুল জীবন আর টিকে থাকার গল্প শোনায় লিজি। সে বলে, ‘বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও আমার বাবা-মা আমাকে স্বাভাবিকভাবেই বড় করেছেন। কখনো বলেননি যে আমি একজন আলাদা ধরনের মানুষ।’
সে বলে, ‘আমি অন্য শিশুদের তুলনায় ছোট ছিলাম। বড় হওয়ার পর দেখতাম লোকজন আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের বিস্মিত দৃষ্টি আমাকে ক্ষুব্ধ করতো।’

সবাই লিজির শারীরিক দিকটাই দেখতো, তাকে জানতো চাইতো না। তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইতো না কেউ। তবে তার আসল পরীক্ষা শুরু হয় ন্যাশনাল টেলিভিশনে তার ওপর ফিচার প্রচারিত হওয়ার পর। তখন ইন্টারনেটে ‘বিশ্বের কুৎসিততম নারী’ শিরোনামে তার স্থিরচিত্র পোস্ট করা হয়। সে ছবির ওপর হাজার হাজার বিরূপ মন্তব্য পড়তে থাকে। সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে লিজি বলে, ‘আমার তখন মনে হচ্ছিল হাজার হাজার হাত কম্পিউটার স্ক্রিনে আমার ছবির ওপর আঘাত করছে।’
ছবিতে কমেন্ট করে হাজার হাজার মানুষ। একজন বলেন, ‘এটাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা উচিৎ।’ অনেকে বলেন, ‘এত বিশ্রী মেয়েকে তার বাবা-মা কেন গর্ভেই হত্যা করেনি?’ এসব মন্তব্য ব্যাথিত করে লিজিকে। সে বলে, ‘আমি কি এতটাই খারাপ দেখতে যে আমাকে মেরে ফেলতে হবে? আপনি কি এটা কল্পনা করতে পারেন!’
তবে এসব বিরূপ মন্তব্য সত্ত্বেও লিজি বেঁচে থাকতে চায়। অন্য দশজনের মতো সংসার করতে চায়। এখন সব ভয় কাটিয়ে উঠেছে সে। লিজি এখন তাই একজন সঙ্গীর অপেক্ষায় আছে। জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে খুঁজে পেলে আর কিছু চায় না সে। পাশাপাশি অন্যদের সাহায্য করারও স্বপ্ন দেখে সে।

শেয়ার