বিএনপি-জামায়াত শান্তির ভাষা বোঝে না

PM
বাংলানিউজ ॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত শান্তির ভাষা বোঝে না, অস্ত্রের ভাষা বোঝে। অস্ত্রবাজি, মানুষ হত্যা আর দুর্নীতি লুটপাটই তাদের কাজ।
সোমবার খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জেলা আ’লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
জনসভায় যোগ না দিতে যারা হুমকি-ধামকি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিচুক্তির ৭৭টি ধারার মধ্যে এরই মধ্যে ৫৫টি বাস্তাবায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ধারাগুলোরও বাস্তবায়ন করা হবে, ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। বিএনপি এলে কোনো চুক্তি নিয়ে কাজ করেনা বলেই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়িতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একযুগেরও বেশি সময় পর আগমন।
অকেন বাধা সত্ত্বেও দুপুরের মধ্যেই স্টেডিয়ামে মানুষের ঢল নামে। আর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সভামঞ্চে এলে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির মেলাবন্ধনে তাকে বরণ করেন স্থানীয়রা। উপস্থিত সবাই স্বাগত জানান শেখ হাসিনাকে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করলেও বিএনপি-জামায়াত জানে মানুষ হত্যা, লুটপাট আর আর দুর্নীতি করতে।
আগামী নির্বাচনে মানুষ নিজেদের পছন্দে ভোট দিতে পারবেন বলেও জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন অব্যাহত রেখে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চায় সরকার।
এর আগে জনসভা মাঠ থেকে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩শ’ ২০ কোটির ১৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
উদ্বোধনী প্রকল্পগুলো হলো- রামগড় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, আবহাওয়া অফিস, আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন, মহালছড়ি স্কুলের একাডেমিক ভবন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টার কাম প্রশিণ কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স স্কুল ভবন, পানখাইয়া পাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদের ছাত্রাবাস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ব্যারাক ভবন, একহাজার মেট্রিক টন ধারণ মতা সম্পন্ন খাদ্য গুদাম ও ভাইবোনছাড়া ব্রিজ।
এছাড়া গ্রিড সাব স্টেশন, দীঘিনালার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, তাইন্দং আশ্রায়ন প্রকল্প, শান্তি স্তম্ব ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
জেলা আ’লীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী কর্নেল ফারুক খান, খাদ্য মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক আ’লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহম্মেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরে এসেছে, উন্নয়ন হয়েছে। এ এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরো যা যা করা দরকার আমরা তা করবো। ছেলেমেয়েদের শিার ব্যবস্থা আরো সহজ করবো। আমাদের ল্য বিদ্যুৎ যেন সবার ঘরে ঘরে যায়। আমরা মানুষের কল্যাণ চাই, সুন্দর চাই। ভূমি সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান চাই। আমরা মতায় থাকলে বাস্তবায়ন আর বিএনপি এলে হয় উল্টো।
বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরতাল দিয়ে কি অর্জন করলেন। উনি ঘরে বসে থাকে আর দেশের মানুষ কষ্ট করে। মানুষের কষ্ট আমরা চাই না। মানুষ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের সরকার নিজেরা পছন্দ করে নেবে। ভবিষ্যত উন্নয়নে আরো অনেক কাজ আমাদের করতে হবে। বিএনপি আসে ধ্বংসের রাজনীতি নিয়ে, শান্তির ভাষা নয়, অস্ত্রের ভাষা জানে। দুর্নীতি করে। দেশের মানুষের উন্নতি আর সুখ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এ একটাই দায়িত্ব আমার।
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হরতাল দিয়ে মানুষ হত্যা। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ চলতে থাকবে।
অনেক হুমকি-ধামকি এবং হরতাল উপো করে আসার জন্য খাগড়াছড়িবাসীকে অভিনন্দন জানান তিনি।

শেয়ার