ফিলিপাইনে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা

philipin
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ফিলিপাইনের নাগরিকদের জন্য ত্রাণ সরবরাহের গতি বাড়াতে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বেনিগনো একুইনো।
এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষাণা দেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লেইতি ও সামার প্রদেশ ব্যাপক ধ্বংসলীলা ও প্রাণহানির কবলে পড়েছে।
এ দুটি প্রদেশের হাজার হাজার দুর্গত মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের চারদিন পরও ত্রাণের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে।
দ্রুত ত্রাণ সরবরাহে সহায়তা করতে ফিলিপাইনে বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ফিলিপাইন উপকূলে পৌঁছবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
রণতরীটিতে ৫ হাজার নাবিক ও ৮০টিরও বেশি বিমানপোত আছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি নৌজাহাজ ফিলিপাইন অভিমুখে যাত্রা করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যও সমুদ্রের পানি থেকে পানের উপযোগী পানি তৈরি করার মতো এমন কিছু যন্ত্রপাতিসহ নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক পরিবহন বিমান ফিলিপাইনে পাঠাচ্ছে।
এইচএমএস ডেয়ারিং এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর ছেড়ে গেছে। দু’তিনদিনের মধ্যেই জাহাজটি ফিলিপাইন উপকূলে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা।
এ সমস্ত যুদ্ধজাহাজ দুর্গত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণে গতি সঞ্চার করবে। এছাড়া আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া আরো অনেককে উদ্ধার করাও সম্ভব হবে।
এ যাবৎকালের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কারো কারো ধারণা, মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
সবেচেয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে লেইতি প্রদেশের প্রধান শহর ট্যাকলোবান অন্যতম।
ট্যাকলোবান থেকে বিবিসি’র প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহরটিতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ তৎপরতা এখনো পুরো উদ্যমে শুরু করা যায়নি। দুর্যোত মানুষের অনেকেই এখনো ত্রাণহীন।
তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ত্রাণ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।

শেয়ার