একনেকে ৪৫৭৯ কোটি টাকার ১৭ প্রকল্প অনুমোদন

Acnackboithok
বাংলানিউজ॥ দেশের উপকূলীয় ৮টি পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৮৭৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে।
শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মঙ্গলবার এটি অনুমোদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চল পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, বরগুনা, আমতলী, গলাচিপা, কলাপাড়া, ভোলা ও দৌলতখান শহরে ১০৬ কি.মি. রাস্তা, ৮৫ কি.মি. ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ১৯৪ কি.মি. পানি সরবরাহ পাইপলাইন উন্নতকরণ ও সংস্থাপন, ৫১টি কমিউনিটি শৌচাগার স্থাপন, ১০টি বিদ্যালয়ে টয়লেট স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠানিক সার্মথ ও মিউনিসিপ্যাল পরিচালন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ হবে। একইসঙ্গে পৌরসভাগুলোর প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবি, স্ট্রাটেজিক ক্লাইমেন্ট ফান্ড ও বিল অ্যান্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ঋণ ও অনুদান হিসেবে ৭০৫ কোটি টাকা প্রদান করবে। জানুয়ারি ২০১৪ থেকে মে ২০২০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
সভায় ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শহরে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় শহর দু’টিতে প্রায় দেড় লাখ প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে শতভাগ বিদ্যুৎ রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন হবে।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জার্মান ঋণ ১০৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল জুলাই ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত।
উল্লিখিত দু’টি প্রকল্পসহ মঙ্গলবার একনেক সভায় চার হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্প ব্যয়ের দুই হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৬৪২ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য খাত থেকে মেটানো হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন, খুলনা প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা, যা সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে।
বৃহত্তর রংপুর জেলায় আধুনিক ক্ষুদ্র সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে সরকার। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলাধীন ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দুইটি ব্রীজ নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পও ২০৯ কোটি টাকা সরকার ব্যয় করবে।
টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলাধীন নাগরপুর-মির্জাপুর ভায়া মোকনা সড়কে ধলেশ্বরী নদীর উপর ৫২০.৬০ মি. দীর্ঘ ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পে সরকার ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিএনএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম (সংশোধিত) প্রকল্পে ১৭১ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে।
কন্সট্রাকশন অ্যান্ড ইম্প্রুভমেন্ট অব মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট বাইপাস রোড, সিরামিক রোড অ্যান্ড আদার রোড, ড্রেইনস অ্যান্ড ফাউন্ডেশন অক পল্লবী এরিয়া প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেমে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কে শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত)” প্রকল্পে সরকার ব্যয় করবে ১৭৪ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য থেকে ৪০ কোটি টাকা মেটান হবে।
আনসার ও ভিডিপি’র ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম পর্যায় ১৫টি আনসার ব্যাটালিয়ন) প্রকল্পের মোট সরকারি ব্যয় ১৭২ কোটি টাকা।
চিনকী আস্তানা-আশুগঞ্জ সেকশনের ক্ষয়প্রাপ্ত রেল নবায়ন ও আনুষঙ্গিক কাজ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। এর ব্যয় ২৯৭ কোটি টাকা, যা সরকারি খাত থেকে মেটানো হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০টি এমজি ও ৫০টি বিজি যাত্রীবাহী গাড়ী সংগ্রহ প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।এই টাকা জিওবি থেকে ৩৩৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ৭৯৩ কোটি টাকা।
বিএনএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, পতেঙ্গা চট্টগ্রাম প্রকল্পের ব্যয় ১৭১ কোটি টাকা।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট ৩টি বিজিবি হাসপাতাল (চুয়াডাংগা, ঠাকুরগাঁও ও খাগড়াছড়ি) স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের মোট সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা।
গোপালগঞ্জে ইডিসিএল-এর ৩য় শাখা কারখানা স্থাপন প্রকল্পের ৫৯৭ কোটি টাকা সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে।বিএমএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, ভাটীয়ারি, চট্টগ্রাম প্রকল্পেও সরকার ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয় করবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নগর ভবন পুননির্মাণ এবং কর্পোরেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহ (সংশোধিত) প্রকল্পে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার।
বাঁদা ঘাট –এয়ারপোর্ট (সিলেট) লিংক রোড এর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নকরণ (সংশোধিত) প্রকল্পেও সরকার ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করবে।
সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম অনুমোদিত প্রকল্পসমূহের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ একনেক’র অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার