১৮ দলীয় জোটের টানা ৪ দিনের হরতাল চরম বিপাকে জেএসসি পরীক্ষার্থীরা

jsc
ই.আর.ইমন ॥
বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালে চরম বিপাকে পড়েছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে তাদের ডাকা দু’দফা হরতালে জেএসসির ৫ দিনের পরীক্ষা সূচির পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চতার মধ্যে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১লাখ ৮১ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থী। যথা সময়ে পরবর্তী দিনগুলোতে পরীক্ষা নিয়েও বিচলিত।
গত ৫ নভেম্বর সোমবার থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন পরীক্ষা ছিল বাংলা ১ম পত্রের। পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন বাধে বিপত্তি। পরীক্ষার আগের দিন নানা ইস্যুর অজুহাতে একটানা ৩দিন (৬০ ঘন্টা) হরতালের ডাক দেয় জামায়াত-বিএনপি। এ অবস্থায় ৪ ও ৬ নভেম্বরের জেএসসি পরীক্ষার সময় সূচির পরিবর্তন করা হয়। ৪ নভেম্বরের বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষা পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয় ৮ নভেম্বর এবং ৬ নভেম্বরের বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ নভেম্বর ধার্য করা হয়। ৭ নভেম্বর শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে ইংরেজি ১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরের দিন ৮ নভেম্বর আবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেয়া হয়। হরতাল শেষে পরপর দুই দিন পরীক্ষা দিতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় আবার মনোযোগী হলেও ১০ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় টানা (৮৪ ঘন্টা) ৪দিন হরতালের ডাক দেয় জামায়াত বিএনপি। এতে ১০, ১১ ও ১২ নভেম্বরের জেএসসি পেছাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ১০ নভেম্বরের ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা পিছিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। এছাড়া একইভাবে ১১ নভেম্বরের বিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষা পিছিয়ে ১৬ নভেম্বর ও ১২ নভেম্বরের ধর্ম বিষয়ক পরীক্ষার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ২১ নভেম্বর। শুধুমাত্র হরতালের কারণে পরীক্ষার ৫দিনের সময়সূচি ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। এজন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন থেকেই উৎকণ্ঠায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। যশোর শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেএসসি পরীক্ষায় এ বছর ১লাখ ৮১ হাজার ২০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু অব্যাহত হরতালের জন্য এসব শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মারাত্মক ছন্দপতন ঘটছে। একের পর এক পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন হওয়ায় পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। আবার শিক্ষার্থীদের পূর্বের প্রস্তুতিতেও বিঘœ ঘটছে। এছাড়া পরবর্তী পরীক্ষা নিয়েও উদ্বিগ্ন এসব শিক্ষার্থীরা। আগামী পরীক্ষাগুলো য সময়সূচি অনুযায়ী হবে কিনা তা নিয়েও চিন্তিত এসব শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ঘন ঘন পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের ফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। তারা মনে করছে অব্যাহত হরতাল চলতে থাকলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলের উপর।
এ ব্যাপারে মুসলিম একাডেমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জোহর আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কথা ভেবে হরতাল না দেয়া উচিত। হরতালে শিক্ষার্থী নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারে না। যশোর সদর উপজেলার সুলতানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থী শান্তা জানায়, পরীক্ষার দিন হরতাল ডাকায় প্রস্তুতিতে বিঘœ ঘটছে। পরীক্ষার সময় হরতাল খারাপ বলে মন্তব্য করে ুদে এই শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুলতান আহমেদ সমাজের কথাকে জানান, হরতালের ফলে শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে হলেও হরতাল পিছানো উচিত। এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবু দাউদ বলেন, পরীক্ষার মধ্যে হরতাল ডাকায় শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগে বিঘœ ঘটছে। তাদের ভিতর উৎকণ্ঠা ও টেনশন কাজ করছে। যার প্রভাব কিছুটা হলেও পরীক্ষার ফলাফলে পড়বে বলে তিনি জানান।

শেয়ার