দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় কর্মহীন অভিভাবকরা ॥ ১৮ সন্তানের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন অনিশ্চিত

dada
এসএম সাঈদুর রহমান সোহেল, খুলনা প্রতিনিধি ॥
ফারুক হোসেন কাজ করতেন খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরীতে। সহকারী মেশিন ম্যান হিসেবে তার নিয়োগ এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু গত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন। তিন সন্তান ও স্বামী-স্ত্রী মিলে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার এখন চলছে অর্ধাহারে-অনাহারে। এর ওপর তার একমাত্র মেয়ে ফারজানা আক্তার ছবি এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু ফরম পূরণের অর্থ তার পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছেনা। শুধু ফারুক হোসেন একানন এভাবে তার মত ১৮ জন পরীক্ষার্থীর অভিভাবকই একই দুশ্চিন্তায় আছেন।
নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোডে ম্যাচ ফ্যাক্টরী অভ্যন্তরেই দাদা ম্যাচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। মিল বন্ধ হয়ে গেলেও এমপিওভূক্তির কারণে স্কুলটি চালু রয়েছে। তবে স্কুলটি তার জৌলুস হারিয়েছে। গত শনিবার স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসব মূখরতা দেখা যায়। তবে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা হতাশার ছোঁয়া পরিলক্ষিত হয়।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের মরিয়ম আক্তার ও তানজুম আরেফিন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের নাহিদ শেখ, ফারজানা আক্তার ময়না, তানিয়া আক্তার, আয়শা আক্তার মীম, শফিকুল ইসলাম, সানজিদা আক্তার, ফারজানা আক্তার ছবি, হাফিজুর রহমান, ইমন, তাসলিমা নাসরিন, ইয়াছিন, মাহফুজ আহম্মেদ, সুজন হোসেন, জুনিয়া আক্তার (জুই), মাহফুজুল হক ও শারমিন আক্তার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি-না তা নিয়ে হতাশায় রয়েছে। কারণ এখনও তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি। যদিও তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতির কোন কমতি নেই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন গাজী গতকাল সমাজের কথাকে জানান, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় এ স্কুল থেকে ৫৩জন শিক্ষার্থীর অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ১৮জন মিল শ্রমিকের সন্তান। মিলটি কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকায় তাদের অভিভাবকরা কর্মহীন হওয়ায় তাদের পক্ষে সন্তানদের পরীক্ষার ফরম পূরণের অর্থও যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছেনা। আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে এ অর্থ যোগাড় করা সম্ভব না হলে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেয়া অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।
দাদা ম্যাচ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিলখোশ বলেন, ২০১০ সালের ১৮ আগষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের ১০ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখেই ভাইয়া গ্রুপ মিলটি বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনারখালিশপুরের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিল চালুর ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মিলের সাড়ে ৭শ’ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই ৬৭জন শ্রমিক বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।
মিল চালু আন্দোলনের অন্যতম নেতা জি.এম মাহবুবুর রহমান বলেন, মাত্র ১০ কোটি টাকা হলেই মিলটি চালু করা সম্ভব হতো। বেকার শ্রমিকরা মিল চালুর আশায় থেকে অন্য কোথাও কাজে যোগ দিতে পারছেনা।
স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফারুক হোসেন বলেন, বেকার শ্রমিকরা দিন মজুরের কাজ করে কোন রকমে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগেই মিল চালু করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শেয়ার