হরতালে বেতাল বিনোদন

hortalbi
বাংলানিউজ॥
পূরবী সিনেমা হলের সামনে সকাল ১২টায় গিয়ে দেখা যায় ছাত্রলীগের হরতাল বিরোধী একটি মিছিল এসে জড়ো হয়েছে। খবর নিয়ে জানা যায় হরতাল চলাকালিন সময়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান করেন। ফলে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয় না। হল খোলা থাকলেও অনেকে ভয়ে ছবি দেখতে আসেন না। খবর নিয়ে জানা যায় হরতালের সময় ঢাকার বলাকা, সনি, মধুমিতা, আনন্দ, সহ প্রায় সব সিনেমা হলগুলোতেই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী চালু থাকলেও দর্শকের সংখ্যা খুবই কম।

ঢাকার ফিল্মপাড়া খ্যাত কাকরাইলে গিয়ে দেখা যায় এখানেও নেই কোন কর্মচঞ্চলতা। অধিকাংশ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তালা ঝুলছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীরও একই অবস্থা। মূল দরজায় তালা লাগানো। রবিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত ও নৃত্য বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধন’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় একটি অনুষ্ঠান হবার কথা থাকলেও হরতালের কারণে তা বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় শিল্পকলা একাডেমীর জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা এস.এম. সালাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন ‘আমরা আমাদের একাডেমীর অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করেছি। কিন্তু যারা হল ভাড়া নিয়ে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন করেন তারা কোন অনুষ্ঠান করবেন কি না আমার জানা নেই। তবে অধিকাংশ সময় দেখা যায় নাটকের মঞ্চায়ন থাকলে তা বাতিল করা হয়।’

তিনি আরো জানান রবিবার সন্ধ্যায় একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান হবার কথা রয়েছে শিল্পকলা একাডেমীতে।

বিএফডিসিতে পূর্ব নির্ধারিত শুটিং ছিলো যাদের এদের মধ্যে অনেকেই শুটিং বাতিল করেছেন। আবার অনেকে হরতালের মাঝেই শুটিং করছেন। তবে এফডিসিতে বিশেষ নিরাপত্তা থাকলেও ছিলো না কাজের কোন চাপ। নিরবতাই লক্ষ্য করা যায় এফডিসির ফ্লোরগুলোতে। শাকিব খান ও ইমনকে দেখা যায় শুটিং করতে। তারা দুটি পৃথক ছবির শুটিং করছিলেন। এছাড়া আর কোন ছবির শুটিং চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে কথা হয় বিএফডিসির এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন এমনিতে এফডিসিতে শুটিং কম হয়। প্রতিদিন রুটিন মাফিক যে শুটিং হবার কথা ছিলো তা হচ্ছে। তবে কিছু কিছু নির্মাতা হরতালে ঝুঁকি নিয়ে শুটিং করতে চাননি।’

এদিকে গেল শুক্রবার সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে দুটি নতুন ছবি। এর মধ্যে রয়েছে দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ ও নায়ক রাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘আয়না কাহিনী’। হরতালের কারণে এ দুটি ছবির নির্মাতারাও আছেন বিপাকে। হলে দর্শক যেতে পারছে না ফলে প্রত্যাশা অনুসারে মুনাফা না করার সম্ভাবনা রয়েছে ছবি দুটির। যদিও দেবাশীষ বিশ্বাস শুনালেন আশার কথা। তিনি বলেন ‘আমার ছবি খুব ভালো যাচ্ছে। হরতালের কারণে শুধু জোনাকী সিনেমা হল বন্ধ আছে। অন্য হলগুলোতেও ভালো যাচ্ছে ছবিটি। হরতালের মাঝেও বেশ দর্শক হচ্ছে।’

হরতালে রাস্তায় বের হতে ভয় পায় মানুষ। সেখানে হরতালে কিভাবে তার সিনেমা দর্শক দেখছে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তবে হল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিনের কাছে পাওয়া গেল প্রশ্নের উত্তর। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘দেখুন এমনিতে আমাদের হলগুলোতে সাধারণ সময়গুলোতে দর্শক পাই না। আর যদি হরতাল হয় তাহলে তো কথাই নেই। এ সপ্তাহে দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। আমি এটাকে বলবো ‘সুইসাইড রিলিজ’। ছবি দুটি মেয়ে দর্শক ভালো টানতে পারতো। কিন্তু দেশের এ অবস্থায় মেয়েরা কিভাবে হলে যাবে ছবি দেখতে?’।

তাই সব দিক বিবেচনা করে এ কথা আমরা বলতেই পারি হরতালে বেতাল হয়ে পড়েছে বিনোদন বাণিজ্য।

শেয়ার