নড়াইল- ২ আসনে সংসদ নির্বাচনী হাওয়া প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে নবীণরা

narail
শেখ বদরুল আলম টিটো, লোহাগড়া (নড়াইল) থেকে॥ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের দূর্গ খ্যাত নড়াইল-২ আসন। আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান এমপির কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ির ফাঁকে এ আসনটি এবার বিএনপি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। উভয় শিবিরের প্রবীণ প্রার্থীদের ভীড়ে নবীণ প্রার্থীরাও জায়গা করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এ আসনে জেলা ও উপজেলা অওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে বর্তমান এমপির দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে তার নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনার কারণে। তার পুত্র এরিক মোর্শেদের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ। এমপি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এসকে আবু বাকের ও তার পুত্র সব অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে ঈর্ষাšি¦ত হয়ে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
নড়াইল-২ সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৭২ হাজার ১৫৪। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত নির্বাচনে এসকে আবু বাকের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী শরীফ খসরুজ্জামানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু তার সেই জনপ্রিয়তায় এখন ভাটা। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ৪থেকে ১২জন মধ্যসারির নেতা নিয়ে এসকে আবু বাকের তার শাসনামল চালিয়েছেন। তাদের অপতৎপরতায় দলের ত্যাগী নেতা- কর্মীরা অবহেলিত হয়ে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারপরও প্রচার প্রচারণা থেমে নেই। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তবে সংগঠনের অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বসে নেই। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন নবীণরা।
এ আসনে সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের নবীণ প্রার্থীরা হলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের (ম,আ ৩১৭) বর্তমান এমপি ও প্যানেল স্পিকার ফরিদা রহমানের পুত্র এসএম আসিফুর রহমান বাপ্পী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পিপি এ্যাড. সিদ্দিক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খাঁন নিলু, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু, লোহাগড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা আশরাফুল আলম ও শেখ বদরুল আলম বাদল।
বিএনপির সম্ভাব্য নবীণ প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বার বার নির্বাচিত লোহাগড়া পৌর মেয়র এ্যাড. নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুর, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা এম জাকারিয়া। এ আসনে মনোনয়ন লড়াইয়ে নবীণ প্রার্থী হিসাবে প্যানেল স্পিকার ফরিদা রহমানের পুত্র এসএম আসিফুর রহমান বাপ্পির প্রভাবটা বেশি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ করে এমনই আভাস পাওয়া গেছে ।
নবীণ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী অ্যাড. নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুর বা কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স মনোননয়ন দৌঁড়ে চমক দেখাতে পারেন। অ্যাড. নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুরের সংসদ নির্বাচন করার মত অর্থ প্রভাব জনপ্রিয়তা সবই আছে। ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল খুলনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভায় যাবার সময় দুর্ঘটনায় নিহত এড়েন্দা-কাশিপুরের ১০ পরিবারকে আর্থিকসহ নানা সহযোগিতা দিয়ে কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্সও আলোচনায় এসেছেন। তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। এ দিকে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু সম্ভাব্য নবীণ প্রার্থী হিসাবে বেশ আলোচনায় রয়েছেন। সেই হিসাবে তিনি গণসংযোগও করছেন। সবমিলিয়ে নবীণ প্রবীন প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নড়াইল ২ আসনের জনপদ।

শেয়ার