চেহারা দেখে টেবিল বরাদ্দ!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ফ্রান্সের এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তারা নাকি তাদের রেস্টুরেন্টে সৌন্দর্য অনুযায়ী খদ্দেরদের জন্য আসন বরাদ্দ করে থাকে। অর্থাৎ যে খদ্দের যত বেশি সুন্দর তার জন্য তত বেশি আরামদায়ক আর সেরা টেবিলটিই বরাদ্দ করে থাকে তারা।
শুধু কাস্টমার নয়, কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নাকি একই নিয়ম অনুসরণ করে থাকে তারা। বিশেষ করে কোনো নারী কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে তার শারীরিক সৌন্দর্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

বিখ্যাত কস্তেস গ্রুপ পরিচালিত প্যারিসের লা জর্জ আর ক্যাফে মার্লেতে নাকি এসব অদ্ভূত নিয়ম চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। লুভ্যর জাদুঘরের কাছে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টটি প্যারিসের সেরা রেস্টুরেন্টগুলোর একটি।
ওই রেস্টেুরেন্টের সাবেক দুই কর্মচারী ফ্রান্সের এক সাপ্তাহিক পত্রিকার কাছে রেস্টেুরেন্টের এই বৈষম্যমূলক আচরণের খবর ফাঁস করেন। তারা বলেন, ‘সুন্দর খদ্দেররা সুন্দর জায়গায় বসবে এটাই এখানকার নিয়ম। এতে করে সুন্দর খদ্দেররা অতি সহজেই রেস্টেুরেন্টের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।’
অন্যদিকে যারা দেখতে ভালো নয় তাদের বসানো হয় ঘরের এক কোণায় যাতে তাদের দিকে কারো নজর না পড়ে। রেস্টুরেন্টের গুরুত্বপূর্ণ টেবিলগুলোতে কখনো সখনো যদি কম সুদর্শন কেউ বসে তখন কর্মচারীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। তারা তখন নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে থাকে, ‘আরে এই বদসুরতগুলো এই টেবিলে কী করছে? ওদের তো সবাই দেখতে পাচ্ছে। এটা তো আমাদের ইমেজের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।’
কস্তেস গ্রুপের মালিক হলেন সহোদর থিয়েরে ও গিলবার্ত কস্তেস। প্যারিসে এ দুটি ছাড়াও তাদের আরো বেশ কয়েকটি ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া তাদের আরো রয়েছে হোটেল আর সিনেমা হলের ব্যবসা।
কস্তেস গ্রুপের এই সৌন্দর্যপ্রীতি নিয়ে এর আগেও অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এতে তাদের সৌন্দর্য নীতিতে কোনো হেরফের হয়নি। এ ব্যাপারে রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের প্রতি কড়া নির্দেশনা দেয়া আছে।
তবে টেলিফোনে যারা টেবিল বুক করে থাকেন তাদের নিয়ে একটু সমস্যায় পড়তে হয় রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের। সেক্ষেত্রে তারো খদ্দেরদের চাহিদা মাফিক টেবিল দেয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। দেখার পরই তাদের জন্য টেবিল বরাদ্দ করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, যাদের উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির নীচে তাদের এখানে চাকুরির জন্য আবেদন করার সুযোগ নেই। তবে কস্তেস গ্রুপ এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

শেয়ার