১৮ বছর পর শুরু হচ্ছে মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ড্রেজিং

river drasing
মংলা প্রতিনিধি॥ মংলা বন্দরের পশুর নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে বর্তমানে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজগুলোও বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারছে না। সুন্দরবন সংলগ্ন করমজল, জয়মনিরগোল ও হারবারিয়া নামক স্থানে নোঙ্গর করে পণ্য খালাস করছে।
এদিকে মংলা বন্দর ব্যবহার উপযোগী করার লে নৌ মন্ত্রণালয় একশ’ ৬কোটি ৫০লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় পশুর নদীর ৩৫লাখ ঘনফুট পলি অপসারণ হবে। কেবিনেট কমিটি গভর্মেন্ট পারসেস কমিটিতে অনুমোদিত এ ব্যায় বহুল ড্রেজিং প্রকল্প আগামী মাস থেকে শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৩ নভেম্বর প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ৬০ সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্দরের পশুর চ্যানেলে গত ১৮ বছর ড্রেজিং হয়নি। বন্দরের প্রকৌশল বিভাগের সূত্র জানান, ১৯৫০ সালে বন্দরের যাত্রা শুরু হওয়ার সময় মংলা নালা ও পশুর নদীর সংযোগস্থলে গভীরতা ছিল ৩৫ ফুট।
৬৩ বছরের ব্যবধানে ২০১৩ সালে এই চ্যানেলে ৯ ফুট গভীরতার জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। বিদেশি পাইলটরা ঝুঁকির কারণে হারবারিয়া পর্যন্ত আসতে রাজি হয় না।
প্রতি বছর চ্যানেলে এক দশমিক ৪ ফুট পলি জমছে। আবার কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি পলি জমে। ১৯৯১-৯২ অর্থ বছরে পশুর চ্যানেলে নাব্য সৃষ্টির জন্য ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে মেসার্স চায়না হারবার কোম্পানি ৩৫ লাখ ঘনমিটার পলি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারন করে।
১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ ঘন মিটার পলি অপসারণ করা হয়। অস্বাভাবিকভাবে পলি জমে বন্দরের চ্যানেলে ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হলেও অর্থ সংকট এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় বিভিন্ন সময় ড্রেজিং করা যায়নি।
প্রকল্পের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়। একই বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় এবং ১৩ জুলাই টেন্ডারে তৃতীয় দফার দরপত্রে মেসার্স মালেশিয়ান মেরিটাইমস লি:, মেসার্স সিনো হাইড্রো এবং চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং দরপত্র দাখিল করে। অভিজ্ঞতা ও শর্তপূরণ হওয়ায় চায়না হারবার কোম্পানিকে ড্রেজিং কাজ দেয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে এ ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
প্রকল্পের পরিচালক শেখ আলী আহমেদ জানান, চায়না হারবার কোম্পানির ড্রেজিং মেশিন ইতোমধ্যেই বন্দর এলাকায় পৌছে গেছে। প্রকল্পের আওতায় ৩৫ লাখ ১১ কিউসেক মিটার পলি অপসারণ করা হবে। তিনি জানান, ৬টি পয়েন্টে অর্থাৎ সবুর বেকন, জেটি ফ্রন্ট, জেটি চ্যানেল, কনফুলেন্স পয়েন্ট, মুরিং বয়া এরিয়া এবং বেসক্সিট থেকে এ্যাংকারেজে ড্রেজিং করা হবে। ১৩ নভেম্বর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার মংলা বন্দর সফরে এ ড্রেজিং কাজ উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

শেয়ার