সীমান্তে নারী শিশু পাচারের নিরাপদ বাহন রেজিস্ট্রেশনহীন মোটরসাইকেল

motorcycal
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি॥ সীমান্তের চোরাই ঘাট দিয়ে চোরাচালানীসহ নারী শিশু পাচার থেমে নেই। আর এই পাচারের নিরাপদ বাহনে পরিনত হয়েছে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল। রাতে দিনে সমান তালে গ্রামের সরুপথ দিয়ে মোটরসাইকেলে করে পাচার হচ্ছে মানব (ধুর নামের) নারী শিশু। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু সদস্যের যোগসাজসে অবেধপথে পাসপোর্ট বিহীন পারাপার হচ্ছে দেশ বিদেশের মানুষ। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। আইনশৃঙ্খলার হচ্ছে অবনতি। দেশে আসছে অস্ত্র ম্দাক। বিজিবি মাঝে মাঝে আটক অভিযান্ চালালেও ডিবি পুলিশ সহ থানা প্রশাসনের আটক অভিযান তেমন একটা নেই। সীমান্তে দায়িত্বরত গোয়েন্দা সদস্যরাও থাকছেন নির্বাক। সীমান্তে গোয়েন্দা সদস্যদের সফলতা রয়েছে কম।
কতিপয় অসাধু ট্রাফিক পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনী ও থানা পুলিশের অবৈধ চুক্তিতে বেনাপোলে অবাধে চলাচল করছে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল। যার অধিকাংশই ভাড়া চালানোর অজুহাতে চোরাচালানী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আর এ সকল কাজে ব্যবহার করার জন্য শুধু মাত্র বেনাপোলেই গড়ে উঠেছে ১১টি ভাড়াই মোটরসাইকেল ষ্ট্যান্ড। শিশু ও উঠতি বয়সী যুবকরাই এর চালক। মোটরসাইকেল চালকই নারী শিশু বহন সহ পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
অধিকাংশর কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অনেকেই আবার নেশায় আসক্ত। চোরাচালানী পণ্য পরিবহনের সময় এরা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে অররহ ঘটছে দুর্ঘটনা। মৃত্যু বরন সহ পঙ্গু হচ্ছে অনেকে।
গত মাসে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ছোট আঁচড়া মোড় থেকে চালক সহ ১টি মোটরসাইকেল আটক করে। পরবর্তীতে সীটের নীচে এবং বডিতে বিশেষ ভাবে লুকানো অবস্থায় ৩টি ভারতীয় ইয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া খেয়ে ফেন্সিডিল সহ মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেছে মাদক পাচার কারীরা।
এ সব মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার না থাকায় পুলিশ ও নির্দিষ্ট কারোর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেনা। শুধু চোরাচালান কাজে ব্যবহার নয় অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে মোটরসাইকেল ক্রয় করে রেজিষ্ট্রেশন না করেই ব্যবহার করছে, যার কারনে সরকার এ খাত থেকে প্রচুর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। বিআরটিএ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রেজিষ্ট্রেশন না হলে সরকার প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ১৫হাজার টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়। বন্দর নগরী বেনাপোল শহরে অন্তত ২/৩শ রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল চলাচল করছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কায়ুম আলী জানান, আমি এ থানায় নতুন এসেছি বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে যশোর বেনাপোল সড়কে অবৈধ মোটর গাড়ি আটক অভিযান শুরু করেছেন বলে জানান।

শেয়ার