মওদুদসহ বিএনপির ৫ নেতা কারাগারে

Moudud
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও ভাংচুরের দুই মামলায় মওদুদ আহমদসহ বিএনপি নেতাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিএনপি নেতাদের ১০ দিন হেফাজতে চেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এর শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে আদালত।
বিএনপি নেতাদের পক্ষে জামিন চাওয়া হলে সে আবেদন নাকচ করে ঢাকা মহানগর হাকিম জয়নাব বেগম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
হরতালের ঘোষণা দেয়ার পর আটক এই পাঁচ নেতাকে নিয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে পুরান ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে নেয়া হয়।
এর আধা ঘণ্টা আগে তাদের মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে বের করা হয়। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা সেখানেই ছিলেন।
বিএনপি নেতাদের হাজির করা নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছিল। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা থেমে থেমে সরকাবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। সকালে আদালত পাড়ায় তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণও ঘটে।
বিএনপি নেতাদের পক্ষে আদালতে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল- হক, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আইনজীবীদের নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকার, মো. মহসিন মিয়া।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু, ঢাকা জেলা জজ আদালতের পিপি খন্দকার আব্দুল মান্নান।
পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের দুটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিএনপি নেতাদের প্রত্যেককে ২০ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে বিচারকের কাছে আবেদন করা হয়।
কোর্ট হাজত থেকে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে বিএনপি নেতাদের এজলাসে নেয়া হয়। তারা এজলাসে আইনজীবীদের চেয়ারে বসেন।
আটকের ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পর দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বিএনপি নেতাদের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানান। আটকের পর এই বিষয়ে কিছুই বলছিল না পুলিশ।
পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৫ নভেম্বর মতিঝিল থানায় করা দুটি মামলায় ওই পাঁচ বিএনপি নেতাকে ‘পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
৫ নভেম্বর মতিঝিল থানার এসআই একেএম আজিজুল হক বাদি হয়ে ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮০-৯০ জনকে আসামি একটি মামলা করেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান।
মামলায় বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে বিএনপিসহ জোটের নেতাকর্মীরা কমলাপুর নিউ আনার বেকারি হোটেলের সামনে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা এবং বিস্ফোরিত ৩/৪টি বোমার খোসা উদ্ধার করা হয়।
২৪ সেপ্টেম্বর এসআই হুমায়ুন কবির হওলাদার বাদি হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮০-৯০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খন্দকার জাহিদ আলী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর তথ্যমন্ত্রীর বাসায় বোমা হামলার মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের ঝটিকা মিছিল থেকে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুলের সামনে হাতবোমা ফাটানো হয়। ওই সময় পাঁচটি গাড়ি ভাংচুর করা হয় এবং গাড়ির চালকদের হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার ও রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে এই দুই মামলারই আসামি করা হল।
শুক্রবার রাতে তাদের আটকের পর এর প্রতিবাদে ৭২ ঘণ্টার হরতালকে বাড়িয়ে ৮৪ ঘণ্টা করেছে বিএনপি। তাদের দাবি, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে শীর্ষনেতাদের আটক করা হয়েছে।
তবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, হরতাল ঘিরে বিরোধী দলের নাশকতার প্রেক্ষাপটে সরকার গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপ নিতে ‘বাধ্য’ হয়েছে।
শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় মওদুদ নির্দলীয় সরকারের দাবিতে হরতালের পর অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দেন। এরপর বিকালে ১৮ দল তিন দিনের হরতালের ঘোষণা দেয়। তারপর রাতে বিএনপি নেতাদের আটক করা হয়।
এই আটকের পর বিভিন্ন স্থানে রাতেই ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শনিবার হরতাল ডাকা হয় বিএনপি এলাকাদের নির্বাচনী এলাকায়।
মওদুদ ও এম কে আনোয়ার এই বছরের মাঝামাঝিতে একই ধরনের মামলায় কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। তবে রফিকুল ইসলাম, মিন্টু ও শিমুল বিশ্বাস সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হননি।

শেয়ার