প্রবেশন আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হলো স্কুল ছাত্র সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ আটক ১৭ বছর বয়সী সোহেল রানা নামে এক স্কুল ছাত্রকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে যারা ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে অর্খ বানিজ্য করেছে তাদের কাউকে আটক করতে পারিনি পুলিশ। এদিকে সোহেলকে শিশু কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে না পাঠিয়ে কারাগারে কেন পাঠানো হলো তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
শুক্রবার সকালে এমএম কলেজ থেকে সোহেল রানাকে আটকের পর দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় । দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত সোহেল রানা চৌগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে ও চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সন্তু বিশ্বাস জানান, সোহেল রানাকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ আটক করা হয়। সোহেলের দাবি, সে তার চাকরি প্রার্থী বোনের জন্য প্রতারক চক্রের কাছ থেকে এ প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছে। ভূয়া প্রশ্নপত্র রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আব্দুস সালাম ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন তাকে। ’যেমন কর্ম তেমন সাজা’ অর্থাৎ সোহেলের সাজা দেয়া নিয়ে কোন প্রশ্ন না উঠলেও বিতর্ক উঠেছে প্রবেশন আইন বা জাতি সংঘের শিশু সনদের সুরক্ষা নিয়ে।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীরা শিশু হিসেবে গণ্য। সেই হিসেবে দশম শ্রেণীর ছাত্র তার বয়স ১৭ বছরের ওপরে নয়। এমন একজন স্কুল ছাত্রকে সাজা দিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবেশন আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু কোন কারনে আটক বা সাজাপ্রাপ্ত হলে তাকে কারাগারে দাগি অরাধীদের সাথে না রেখে শিশু ও কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো নিয়ম। কিন্তু সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সোহেলকে। তাকে সংশোধন করতে গিয়ে সাংঘর্ষিক আইনে আরো বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হলো কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

শেয়ার