দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ॥ সাতক্ষীরায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সুন্দরবন ঘেষা সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরাতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এজেলার ৭ টি উপজেলা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪টি আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য দলের বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য ছাড়াও অসংখ্য নতুন মুখ। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে সভা-সমাবেশ ও গনসংযোগের মধ্যদিয়ে মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছেন। অনেক প্রার্থীরা শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেসটুন টানিয়ে ও দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার সাটিয়ে ভোটার ও দলের মধ্যে প্রার্থীতার জানান দিয়ে যাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা-১ আসন (তালা-পাটকেলঘাটা ও কলারোয়া): এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এবার মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়র শেখ মুজিবুর রহমান এমপি, প্রয়াত সাংসদ সৈয়দ কামাল বখত্ ছাকি’র এক মাত্র পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, সাবেক সাংসদ এবিএম নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের যুগ্ন সম্পাদক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সৈনিক লীগ নেতা সরদার মুজিব। একই সাথে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে এক মাত্র প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন সাবেক সাংসদ জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মহাজোটের অন্যতম শরিকদল জাতীয় পার্টি থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসাবে জাপার কেন্দ্রীয় নেতা প্রবীন রাজনীতিক সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত। বিএনপি নেতা আমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ফুরফুরে মেজাজে আছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। অপর দিকে ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থীর তালিকায় জেলা সম্পাদক বর্তমান পিপি এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্যাহ ও জাসদের আবুল কালাম আজাদ মিলন এলাকায় সংযোগ করছেন।
সাতীরা-২ (সদর আসন): এ আসনে জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম এ জব্বার, জেলা জাতীয় পাটির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রী নেতা শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসাবে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম। এছাড়া এবার আওয়ামী লীগ থেকে নতুন প্রার্থী হিসাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এছাড়া সাবেক সচিব শাফি আহমেদও কেন্দ্রে লবিং অব্যহত রেখেছেন। আর বিএনপি’র একক প্রার্থীর তালিকায় নাম রয়েছে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ।
সাতক্ষীরা (দেবহাটা-আশাশুনি)-৩ আসন: মহাজোটের দখলে থাকা এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় প্রথম স্থানে নাম রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ,ফ,ম রুহুল হক এমপি। এছাড়া সাবেক এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ মোকলেছুর রহমান, আশাশুনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোস্তাকিম। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ডা, শহিদুল আলম ও গোলাম রসুল সুমন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি এ্যাডঃ সালাউদ্দিন।
সাতক্ষীরা (কালিগঞ্জ-শ্যামনগর)-৪ আসন: এ আসনে সদ্য জাতীয় পার্টি থেকে বহিঃষ্কৃত সাংসদ এইচ এম গোলাম রেজা এবারও এআসনে প্রার্থী। আর আওয়ামীলীগ থেকে এবার এ আসনে গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুনসুর আহমেদ। এছাড়া সাবেক এমপি একে ফজলুল হক, গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জি এম শফিউল আজম লেলিন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নাম পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিএনপির জেলা সম্পাদক এ্যাডঃ সৈয়দ ইফতেখার আলী ও সহ-সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাষ্টার আব্দুল অহেদ বিএনপির প্রার্থী হিসাবে গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পাটির সভাপতি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিজিপি’র শাহদাৎ হোসেন ।
তবে সাতক্ষীরার ৪টি আসনের মধ্যে ২টি আওয়ামী লীগ ও ২টি জাতীয় পার্টির দখলে থাকলেও মহাজোট থেকে নির্বাচিত চার এমপি তৃর্ণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা দলীয় চাঁদর গায় দিয়ে নিজেদের এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদের ভাগ্যের পরিবর্তন করলেও সাধারন কর্মীদের কোন মূল্যায়ন করেননি। এমনকি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও এমপিরা ছিলেন সম্পূর্ন উদাসিন। ফলে সরকারের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড হলেও তার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। তৃর্ণমূল নেতাদের অভিমত আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাতীরার ৪টি আসনে নতুন প্রার্থী না দিলে গতবারের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

শেয়ার