খুলনায় অতিথি পাখি শিকারের মহোৎসব ॥ শুরু হয়েছে শিকারিদের গ্রেফতার অভিযান

pakhi
এস এম সাঈদুর রহমান সোহেল, খুলনা প্রতিনিধি ॥ নভেম্বর থেকে মার্চ। একটি বছরের শেষ, শুরু নতুন বছর। শীতের মৌসুম। অতিথি পাখির আনাগোনাও শুরু। খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিলগুলো এখন পাখির কলকাকলীতে মুখর। চোরা শিকারীরাও তৎপর। চলছে এ পাখি শিকারের মহোৎসব। বন বিভাগও তৎপর। শুরু হয়েছে শিকারিদের গ্রেফতার অভিযান। সাথে শিকারকৃত পাখি উদ্ধারও।
সুন্দরবন বিভাগের বন্য প্রাণি দপ্তরের সূত্র জানায়, প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত এ পাঁচ মাস সাধারণত শীতের মৌসুম। মূলত: বছরের এ সময়টিতে বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসে অবস্থান করে। বিশেষ করে ধানসহ অন্যান্য ফসলও উত্তোলন শেষ এবং পানি কমে যাওয়ায় বিলগুলোতে এসব পাখির বিচরণ বেশি থাকে। এ সুযোগে চোরা শিকারিরা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা বিচরণ ক্ষেত্র এবং স্থানগুলোতে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। পরে তা প্রকাশ্য ও গোপনে মোটা অংকের অর্থে বিক্রি করা হয়। এভাবেই চলে অতিথি পাখি নিধনযজ্ঞ।
বন্য প্রাণি দপ্তরের ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের সূত্র থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮টি জেলা-উপজেলায় অতিথি পাখি শিকারের মহোৎসব চলছে। এগুলো হচ্ছে, খুলনা, রূপসা, বাগেরহাট, মংলা, রামপাল, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর, শরিয়তপুর, বরিশাল, অগৈলঝরা, পিরোজপুর, বরগুনা ও পাথরঘাটা। মূলত: এসব এলাকার বিলগুলো থেকে পাখি শিকারের পর স্থানীয় হাট-বাজারে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনার তেরখাদা উপজেলার বাসুয়াখালী (বাইসোখালী) বিল এবং ফরিহাটের ফলতিতা এলাকা কেন্দ্রিক একাধিক পাখি শিকারি দল গড়ে উঠেছে। শীত মৌসুমে পাখি শিকারই যাদের উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম। এসব এলাকার অধিকাংশ পরিবারই পাখি শিকারের সাথে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
এদিকে, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে সুন্দরবন বিভাগের বন্য প্রাণি দপ্তরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের শুরুতেই গত ৩নভেম্বর ফকিরহাটের নওয়াপাড়া ডাক্তারপাড়া মোড় এলাকা থেকে ১৫টি পাখিসহ নিরঞ্জন মন্ডল নামক এক শিকারিকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া গত ৪নভেম্বর তেরখাদার আজগড়া সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে ৩২টি পাখি উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিকারি ফেরদাউস মোড়লকে স্থানীয়রা ছাড়িয়ে নেয়। অভিযানে বিশেষ ভাবে তৈরি পাখি ধরার ফাঁদও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাখির মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির শিডিউল-১ এ্যানিমেল, ওয়াটার বার্ড, কাইন, তালকুছ ও ডংকুর অন্যতম।
বন্য প্রাণি দপ্তরের ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট-২’র রেঞ্জার লুৎফর পারভেজ বলেন, ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট-১ ও ২ নামে দু’টি ইউনিটের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ১৮টি জেলা-উপজেলায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের বিল এলাকা এবং এর পাশ্ববর্তী বাজারগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর পরই ক্রেতা বেশে শিকারির সাথে কথা বলে অবস্থান নিশ্চিত হয়েই অভিযান চালানো হয়। আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বন্য প্রাণি দপ্তরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবির বলেন, আইন অমান্য করে পাখি শিকার করলে বন্য প্রাণি সংরক্ষণ আইনের ৩৮ ধারায় (১/২) ১ বছরের কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয় বার করলে দন্ডের মেয়াদ দ্বিগুন হবে। অতিথি পাখি শিকার বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এবং সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শেয়ার