কপোতাক্ষের পানিতে প্লাবিত মহাকবি মাইকেলর সাগরদাঁড়ি॥ পর্যটক শুন্য মধুপল্লী

keshobpur
আশরাফ-উজ-জামান খান(কেশবপুর প্রতিনিধি) ॥ অতিবৃষ্টি ও কপোতা নদের উপচে পড়া পানিতে যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীসহ পর্যটন কেন্দ্রের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এবং অধিকাংশ অবকাঠামো গত ৩ মাস ধরে প্লাবিত থাকায় পর্যটকদের আগমন হ্রাস পেয়েছে। প্রতি মাসে শত শত পর্যটকদের এখানে আগমন ঘটলেও গত ৩ মাসেও অর্ধশতাধিক পর্যটকেরও আগমন ঘটেনি।
বাংলা সাহিত্যের অমিত্রার ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি কেশবপুরের কপোতা নদের পাড়ে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান এক নজর দেখার জন্য এবং মধু গবেষকসহ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্কুল, কলেজের শিার্থী ও দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিপাসু শত শত পর্যটক এখানে ভিড় জমায়। ফলে বছরের প্রায় ১২ মাস মুখরিত থাকে সাগরদাঁড়ির মধুপল্লী। গত আগষ্ট মাস থেকে এ অঞ্চলে অতি বৃষ্টি ও কপোতারে উপচে পড়া পানির কারনে কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়কের শেখপুরা নামক স্থানের প্রায় ২শ’ফুট পাকা সড়কের উপর ২/৩ ফুট পানি জমে থাকায় এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, শিশুদের খেলার মাঠ, বাদামতলার বিনোদন পার্কসহ মধুপল্লীর অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ায় পর্যটকরা এখানে ভ্রমণে আসতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, দুই মাস পরে ২৫জানুয়ারি কবির জন্মবার্ষিকী উপলে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। দণি-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ মেলায় সমাগম ঘটে কয়েক ল মানুষের। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার আব্দুস সামাদ বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও কপোতা নদের পানি ঢুকে পড়ার কারনে কবির স্মৃতিবিজড়িত কাঠবাদাম গাছটি হুমকরি মুখে রয়েছে। সৌন্দর্য হারিয়েছে শিশু পার্কসহ মধু উদ্যানটি। ডাকবাংলোর ভবনটির পলেস্টার খসে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মঞ্জুর আলম জানান, অতি বৃষ্টি জনিত ও কপোতা নদের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের ৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের সাগরদাঁড়ি গ্রামেই মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, শিশুদের খেলার মাঠ, বাদামতলার বিনোদন পার্কসহ মধুপল্লীর অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পর্যটকরা এখানে ভ্রমণে আসতে উৎসাহ হারাচ্ছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত তিগ্রস্থ সড়ক সংষ্কারসহ অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং আগের মতই পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে মধুপল্লী।
এ ব্যাপারে পর্যটন কেন্দ্রের ইউনিট ম্যানেজার লিটন খান জানান, ৩ মাস ধরে সাগরদাঁড়ির মধুপল্লী প্লাবিত থাকার কারণে পর্যটকরা না আসতে পারায় সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত ৩ মাসে মাত্র ৩৫ জন পর্যটক এখানে এসেছে।

শেয়ার