হরতালে সাজানো মিছিল-বোমাবাজি

hortal
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সাম্প্রতিক সময়ে হরতালে বোমাবাজির ছবি ও ভিডিওচিত্র সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষের সামনে এলেও এর পেছনের কথা অনেকের কাছেই থেকে যায় অজানা।
এসব ঘটনার ছবি বা ভিডিওতে যা দেখা যায়; তার পেছনে যা রয়েছে, তার একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হরতালকারীরা খবর দিয়ে সাংবাদিককে এনে বোমা ফাটিয়ে আবার চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের ডাকে টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালের সময় রাজধানীর হাজারীবাগের একটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় এই ধরনের একটি চিত্র ধরা পড়ে।
কিছুদিন ধরেই হরতালের সময় কোথায়-কোথায় মিছিল হবে, তা মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে আসছিল। আর সময় ধরে ওই সব স্থানে গেলে ক্ষণিকের মিছিল এবং বোমা ফাটানোর ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
হাজারীবাগে গত ৬ নভেম্বর হরতালের দুপুরের ওই ভিডিওতে দুই তরুণকে একটি তিন রাস্তার মোড়ে একটি গলির মুখে দাঁড়িয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
একটু পরে সাংবাদিক ব্যানার লাগানো একটি অটোরিকশা এলে ওই দুই তরুণের একজন এগিয়ে যান, কথা বলেন অটোরিকশার আরোহীদের সঙ্গে। কথা বলে আগের জায়গায় ফিরে আসেন তিনি। ওই সময় গলির ভেতর থেকে আরো তিনটি মুখ উঁকি দিলে তাদের নিয়ে একটু ভেতরে ঢুকে যান ওই তরুণ।
অটোরিকশায় স্টার্ট নিতে একটু দেরি হলে ওই তরুণকে আবার গলি থেকে মুখ বের করে তিন রাস্তার মোড়ের দিকে হাত উঁচিয়ে কিছু ইঙ্গিত করেন।
এর মধ্যে অটোরিকশা থেকে ভিডিও ক্যামেরা হাতে একজন বেরিয়ে আসেন এবং তিনি তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন। ঠিক সেই সময় গলির ভেতর থেকে ব্যনার হাতে পাঁচজনের একটি মিছিল।
মিছিলটি মোড় একবার প্রদক্ষিণ করেই ব্যানার গুটিয়ে ফেলে। এর পর ওই পাঁচ তরুণ দৌড়াদৌড়ি করেন এবং তাদের মধ্যে দুজন দুটি হাতবোমা ফাটান সেই স্থানটিতে, যেখানে অটোরিকশা আরোহীদের হাত দেখিয়ে ইঙ্গিত করেছিলেন প্রথম তরুণ।
বোমা ফাটিয়েই ওই পাঁচ তরুণ বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়েন। আর প্রায় এক মিনিট ধরে ভিডিও ধারণকারীও ‘সাংবাদিক’ লেখা ব্যানার থাকা অটোরিকশায় চড়ে চলে যান।
এই ধরনের ঘটনা এখন হামেশাই ঘটছে বলে বেশ কয়েকজন আলোকচিত্র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলোকচিত্র সাংবাদিক বলেন, “অনেক সময় মোবাইল ফোনে কল করে বলা হয়, ওই সময়ে ওই স্থানে ঘটনা ঘটবে। গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ অথবা গাড়ি পোড়ানোর ছবি পাওয়া যায়।”
সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের ছবি বা ভিডিও’র ‘কদর’ থাকায় সাংবাদিকরাও এতে আগ্রহী হন, বলেন ওই আলোকচিত্রী।
তিনি বলেন, “এমনো ঘটেছে, সময় জানানোর পর সাংবাদিকদের যেতে দেরি হলে সে পর্যন্তও অপেক্ষাও করা হয়।”
হরতালে ‘সাজানো’ এই মিছিল-বোমাবাজির বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি পুলিশও জানে বলে কয়েকজন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,“আমাদের বলে দেয়া হয়েছে, কোনো মিডিয়ার বিশেষ করে টিভি চ্যানেলের গাড়ি কোথাও দাঁড়ানো দেখলে যেন তার আশেপাশের এলাকায় খেয়াল রাখি।”
বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও বলেন, মোবাইল ফোনে কল কিংবা এসএমএসে পাওয়া আগাম তথ্য জানাতে বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা অনুরোধ জানিয়ে রাখেন।

শেয়ার