মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল

মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের ত্যাগের মাধ্যমে জাতি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র; তাই তাঁদের অবদান ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন দেশের অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা পাননি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীভাতা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। সরকার উপলব্ধি করে যে, মুক্তিযোদ্ধারা বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাই তাঁদের সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতেই ভাতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় আনে। বর্তমান সরকার ১ লাখ ৫০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা প্রদান করে আসছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়। জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ডিসেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৫ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে সরকার মুক্তিযুদ্ধকে যেমন সম্মানীত করেছে তেমনই মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করেছে। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৌরবের ও সম্মানের।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হন। নিজেদের অর্জিত স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছনা ও বঞ্চনায় দিনাতিপাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্বাধীনতার ইতিহাস পরিবর্তন করা হয়। সংবিধানের চার মূলনীতিতে কুঠারাঘাত করে দেশকে ভিন্ন আঙ্গিকে পরিচালিত করতে থাকে। বাঙালী জাতীয়তাবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ থেকে দেশ কক্ষচ্যুত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে খাটো করার প্রক্রিয়া চলে দীর্ঘদিন ধরে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এসেই অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান বিষয়টি চালু করে। প্রথমদিকে সব কিছু গুছিয়ে উঠতে সময় নেয় তারপরও প্রতিমাসে তিন শ’ টাকা ভাতা প্রদান শুরু করে। তারপর আওয়ামী লীগ সরকার যতবার সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে ধাপে ধাপে ভাতার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে তা ৫ হাজারে উন্নীত করল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অন্যান্য সরকারও যদি সদয় দৃষ্টি দিত তা হলে দেশে কোন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা থাকত না। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করায় এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল প্রকার মুক্তিযোদ্ধাকে বর্তমানের নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা ভাতার আওতাধীন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহের কারণে ভাতা ৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা সম্ভব হয়। বিষয়টি আনন্দের ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বস্তিদায়ক। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন অবশ্যই প্রশংসনীয়। দেশের আপামর মানুষ বিষয়টি শ্রদ্ধা ও ভালাবাসার সঙ্গে গ্রহণ করবে।

শেয়ার