টিকটিকি, কাঠবিড়ালি খেয়ে জঙ্গলে ১৯ দিন

legart
সমাজের কথা ডেস্ক॥ জীবন যে কতো মূল্যবান তা বোঝা যায় যখন সেটা চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। সবচেয়ে জীবনবিমুখ মানুষটিও মৃত্যুর মুখোমুখি হলে শেষ চেষ্টা করে বাঁচার। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়ার গহিন জঙ্গলে মৃত্যুর মখোমুখি হয়ে তেমনই এক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন ৭২ বছর বয়সী শিকারী জিনি পিনাফ্লোর।
আহতাবস্থায় ক্যালিফর্নিয়ায় জঙ্গলে কেবল টিকটিকি ও কাঠবিড়ালি খেয়ে ১৯ দিন কাটিয়েছেন জিনি। অবশেষে গত শনিবার তাকে মুমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
হারিয়ে যাওয়ার ১৯ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর অধিবাসী জিনিকে শনিবার উদ্ধার করা হয় ক্যালিফর্নিয়ার মেনডোসিনো বন থেকে।
মেনডোসিনো কাউন্টি শেরিফের মুখপাত্র এন্ড্রু পোর্টার জানান, বনে শিকারে থাকা অন্য শিকারিরা শনিবার জিনিকে খুঁজে পেয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
জানা যায়, কিছুদিন আগে অন্যান্য শিকারিদের সঙ্গে মেনডোসিনো বনে হরিণ শিকারে যান জিনি পিনাফ্লোর। একসময় বনে কুয়াশার মধ্যে অন্যদের কাছ থেকে হারিয়ে যান তিনি। পাহাড়ে হাঁটতে গিয়ে একসময় পড়ে মাথায় আঘাত পান ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
জ্ঞান ফিরে তিনি বনের ঘন কুয়াশা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন। এরপরই ঘন বনে একা একা শুরু হয় তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
জিনির ওই গল্প শোনাতে গিয়ে কাউন্টি শেরিফের মুখপাত্র পোর্টার জানান, হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি ঠিক করেন সেদিন রাতটা বনের মধ্যে থাকা জলের আশেপাশে কাটাবেন। এরপাশেই কেটে যায় দুদিন। এই দুদিনে জিনি আকাশে হেলিকপ্টার দেখেছেন, কিন্তু ধোঁয়া কিংবা হাজার হইচই করেও সেটির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি।
জঙ্গলে বেঁচে থাকার জন্য এসময় তিনি খেয়েছেন কাঠবিড়ালি, টিকটিকি, সাপ, শ্যাওলাসহ নানান কিছু। বনে বৃষ্টি, তুষারপাত ও শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি বড় গাছের গুঁড়ির নিচে বানিয়েছিলেন থাকার জায়গাও। যা ঢেকে দিয়েছিলেন ঘাস, লতাপাতা দিয়ে। তবুও কখনো কখনো রাতে বনের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নেমে যেত বলে জানিয়েছেন জিনি।
এভাবে দিন কাটতে থাকে। জিনি তবু উদ্ধারের আশা ছেড়ে দেননি কখনো। তিনি বিশ্বাস করতেন কেউ কেউ না কেউ তার খোঁজে আসবেই।
অবশেষে গত শনিবার তাকে খুঁজে পেয়ে অন্যান্য শিকারিরা নিয়ে আসে স্থানীয় উকরিয়াহ শহরে। সেখানেই বর্তমানে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। বর্তমানে জিনি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে জিমি।

শেয়ার