সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন॥ ছেলেকে অপহরণের অভিযোগে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দিন মজুর বাবা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় ছেলে অপহরণের মামলা দায়ের করে আসামীদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক দিনমজুর রিকসা চালক। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতাক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১০ নম্বর সোরা গ্রামের শেখ মুনছুর আলীর ছেলে সেখ সোহরাব হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহরাব হোসেন বলেন, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে গত ১ জুন দাওয়াত খাওয়ার নাম করে শ্যামনগর উপজেলার ১০ নং সোরা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন, ইকবাল, মোমিনুর, নুরে আলম, ৯ নং সোরা গ্রামের সাইদী, বাবলু, সাইফুল ও আশরাফুল পরিকল্পিত ভাবে তার ছেলে সাইদুল ইসলাম (২৫) কে অপহরন করে। এঘটনায় আদালতের নির্দেশে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) তারক বিশ্বাস তার ছেলেকে উদ্ধার তো দূরের কথা এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি। আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে তিনি কোন আসামীকে গ্রেফতার করছেন না এমন অভিযোগ সর্ব মহলের। ফলে পুলিশের শেল্টারে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বাদীকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগসহ হুমকী ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এঘটনায় আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে ১০৭ ধারায় একটি মামলা করলে তারা এসে মুচেলকা দিয়ে যাওয়ার পরও হুমকি অব্যহত রাখে। এক পর্যায় আসামীদের ভয়ে তিনি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে সাতক্ষীরা শহরে এসে আশ্রয় নিয়ে রিকসা চালিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্ত আসামীরা সাতক্ষীরায় এসেও তাকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করাসহ নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত ৪ নভেম্বর আসামীরা সাতক্ষীরায় এসে অজ্ঞাতনামা কয়েক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে এসপি বাংলোর সামনে থেকে তাকে জোর পূর্বক ধরে সদর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে টিপ সহি করিয়ে নেয়। পরে এলাকার কয়েক পরিচিত লোকদের সহযোগিতায় তিনি থানা থেকে ছাড়া পান। এভাবে আসামিরা তাকে হয়রানি করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনি মামলার সকল আসামীদের গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করার পাশাপাশি তার অপহৃত ছেলেকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে শ্যামনগর থানার ওসি তদন্ত তারক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন ভূক্তভোগি নির্যাতিত পরিবারসহ শ্যামনগরবাসী।

শেয়ার