মাগুরায় এবার কাত্যায়নী উৎসবে থাকছে না মেলার আয়োজন

magura
আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা॥ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মাগুরার ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসব এবার তার কৌলিন্য হারাচ্ছে। দীর্ঘ ৬০ বছরের লালিত ঐতিহ্যটি উপ-মহাদেশের অন্যতম সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিলেও মৌলবাদিদের আগ্রাসী মনোভাবের কাছে মাথানত করে স্থানীয় আয়োজকরা এবার সেই উৎসবটিকে একেবারেই ঝেড়ে ফেলতে যাচ্ছেন।
আজ শুক্রবার থেকে মাগুরায় ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সার্বজনীন কাত্যায়নী পূজা। দশমীতে পূজা শেষ হলেও এটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাসব্যাপি মেলা এবার থাকছে না। প্রতি বছর দুর্গা পূজার ঠিক এক মাস পর বাংলাদেশে কেবল মাগুরাতেই এই পূজা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মের আগে গোপবালাবৃন্দ যমুনা নদীর তীরে কাত্যায়নী দেবীর আরাধনা করত। তারই অনুকরণে মাগুরার পারনান্দুয়ালী গ্রামে প্রথম জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ পূজা শুরু হয়। যা দিনে দিনে মাগুরার মানুষের কাছে সার্বজনীন উৎসব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে উৎসবকে উপলক্ষ করে সারা শহরকে বর্ণিল আলো ও রঙে সাজানো হয়ে থাকে। তৈরি করা হয় প্রাচীন স্থাপত্যের অনুকরণে বিশাল বিশাল তোরণ। আয়োজন থাকে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মাসব্যাপী মেলা। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীরা তাদের বাহারি পণ্য সাজিয়ে বসে। আর এই মেলা এবং উৎসবে অংশ নিতে বরাবরই হাজির হয়ে থাকে পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী। অথচ এবার সেখানে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে দেশব্যাপী মৌলবাদিদের অপতৎপরতা।
মাগুরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. প্রদ্যুত কুমার সিংহ জানান, ১৯৫০ সালের দিকে মাগুরা শহরে পারনান্দুয়ালী এলাকার জনৈক সতীশ মাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম এ পূজা উৎসব শুরু করেন। পেশায় তিনি ছিলেন মুদি ব্যবসায়ী। তবে তার গোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী হওয়ায় বিশেষ করে ভরা বর্ষা মৌসুমে পেশাগত কারণে বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে যেত। যে কারণে এ সময়ে অনুষ্ঠিত দুর্গা পূজায় শরিক হওয়া তাদের জন্য দূরূহ হয়ে পড়ত। গোষ্ঠীগত মানুষের সুবিধার্থে তিনি দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করে প্রথম একক আয়োজনে তার এলাকায় কাত্যায়নী পূজা শুরু করেন। যা ব্যাপকতর হতে হতে সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, কাত্যায়নী পূজার সঙ্গে উৎসবের কোন সম্পর্ক নেই। যে কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ সবদিক বিবেচনা করে এবার মেলা ও উৎসবের চেয়ে পূজাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সেখানে আয়োজনের কোন ঘাটতি নেই।
গত বছর শহরের নতুন বাজার, ছানার বটতলা, বদ্যিবাড়ি, পারনান্দুয়ালি, জামরুলতলাসহ সারা জেলায় মোট ৬৬টি স্থানে পূজা এবং উৎসবের আয়োজন করা হলেও এ বছর কমে দাড়িয়েছে ৫৪টি। স্থানীয় আয়োজকরা এই উৎসবে অন্তরায় হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ি করলেও পুলিশ প্রশাসন ভিন্ন কথা জানিয়েছেন।
মাগুরা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, এটি মাগুরার সব শ্রেণীর মানুষের কাছে একটি প্রাণের উৎসব। আর সেই উৎসব চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বরাবরেই মতোই পুলিশ প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে। পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীও বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু উৎসবের পরিধির বিষয়টি আয়োজকদের নিজস্ব বিষয়। যেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বিধি নিষেধ যেমন নেই। তেমনি আইন-শৃঙ্খলা বিঘিœত হবার সম্ভাবনাও আছে বলে মনে করি না।

শেয়ার