প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে লাখ লাখ টাকা অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

Education
ই.আর.ইমন॥
যশোরে প্রাক প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বড় বাবুর মাধ্যমে এ অর্থ লেনদেন করা চলছে। চাকরি প্রত্যাশী কতিপয় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে বাড়তি সুবিধা ও চাকরির নিশ্চয়তার প্রলোভনে এ অর্থ আদায় করা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যশোর জেলা থেকে ২৪ হাজার ১৬২জন চাকরি প্রত্যাশী এতে অংশগ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে শহর ও শহরতলীর ৩১টি প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চাকরি প্রত্যাশী কিছু পরীক্ষার্থীদের বাড়তি সুবিধা দিতে আগেই মাঠে নেমেছেন সহকারী মাহবুবুর রহমান। তিনি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করাতে প্রতিজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১লাখ টাকা করে গ্রহণ করেছেন। তাদের পরীক্ষার হলে বিশেষ সুবিধা দিতে কিছু অসাধু শিক্ষকদের সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষার হলে এসব শিক্ষকরা ওই পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করবে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের সিট প্লান করে দেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যারা প্রাথমিক শিক্ষক পদে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক নয় কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে চাকরি করেন তাদের দিয়ে এসব অযোগ্য প্রার্থীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে এজন্য পূর্বেই ওইসব ভিআইপি পরীক্ষার্থীদের ফরমপূরণ করে দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পাশের সিটের পরীক্ষার্থীকে সহযোগিতার জন্য তারা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
সূত্রমতে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপ হিসেবে মাহবুবুর রহমান এসব পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১লাখ টাকা করে গ্রহণ করেছেন। এরপর লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলে তাদের কাছ থেকে ভাইভা পরীক্ষা বাবদ পুনরায় চুক্তি করে বাকি টাকা গ্রহণ করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে স্টাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তিনি এ টাকা গ্রহণ করেছেন। এর সাথে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, অযোগ্য প্রার্থীদের নানা সুবিধা দিয়ে চাকরির জন্য মনোনীত করায় যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। এর আগেও চাকরি দেয়া বাবদ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক প্রার্থীর চাকরি না দিতে পেরে পুনরায় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চাকরি প্রত্যাশী পরীক্ষার্থী বলেন, ‘বিগত নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি মাহবুবুর রহমানের সাথে লিখিতভাবে ৪লাখ টাকা স্টাম্পে চুক্তি করে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি না হলে এ নিয়োগ পরীক্ষায় তাকে আবার অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উচ্চমান সহকারী মাহবুবুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এবার অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা আবেদন করেছে। ফলে পাশাপাশি সিট প্লানের সুযোগ নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি সঠিক হলে অবশ্যই মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার