দাওয়াত তো দিয়েই রেখেছি : প্রধানমন্ত্রী

shasina
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিরোধীদলীয় নেতাকে গণভবনে বসার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তা এখনো বহাল রয়েছে বলে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমি তো দাওয়াত দিয়েই রেখেছি। দাওয়াত রয়েই গেছে।”
অবশ্য সেই আলোচনার আগে ‘আর হরতাল না দেয়ার’ অঙ্গীকার চান প্রধানমন্ত্রী। মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক কার্যকর হবে কি না- তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বড় দুই দলকে সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টার অংশ হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে বসেন শীর্ষ ব্যবসায় নেতারা। চারদিন আগে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করেন তারা।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদসহ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আনিসুল হক, এ কে আজাদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১১টা ২০ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার এ বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের তরফ থেকে সংলাপের বিষয়ে উদ্যোগ বা সহযোগিতার কোনো অভাব নেই।
“পার্লামেন্ট অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। শুধু ধরে রেখেছি। উনারা যদি আসেন।”
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় ‘সব সময়ই প্রস্তুত’ বলেও ব্যবসায়ী নেতাদের জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপার্সনকে জানানো আমন্ত্রণ বহাল থাকার বিষয়টি বৈঠকে একাধিকবার তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তবে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার আগে হরতাল না করার অঙ্গীকারও তিনি চান।
গত ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের সমাবেশেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আলোচনার দরজা খোলা আছে। কিন্তু হরতাল না দেওয়ার ওয়াদা করে খালেদা জিয়াকে আলোচনায় আসতে হবে।
সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদ নির্বাচন হবে আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে ‘নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
প্রধান দুই দলের এই বিরোধে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর বিরোধী দলীয় নেতাকে টেলিফোন করে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া সে সময় তাকে বলেন, ১৮ দলীয় জোটের হরতাল শেষে তিনি ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারবেন।
দুই নেত্রীর ফোনালাপের পরও সংলাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় সমঝোতার উদ্যোগ নেন ব্যবসায়ী নেতারা। গত সপ্তাহে জরুরি এক বৈঠকের পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তারা প্রায় আড়াই ঘণ্টা কথা বলেন।
ওই বৈঠকের পর এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম সাংবাদিকদের বলেন, তারা দুই দলের মহাসচিবকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং তাতে রাজি হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে পাশে নিয়ে কাজী আকরাম সাংবাদিকদের বলেন, “দাওয়াত ওপেন। বিরোধীদলীয় নেতা যে কোনো সময় আসতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই আছেন।”
বৈঠকে শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে যে সুনাম অর্জিত হয়েছে, তা নষ্ট হবে না, নির্বাচনও হবে।
আর সংবিধান অনুযায়ীই এ নির্বাচন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটা সিস্টেম রেখে যেতে চাই। ভবিষ্যতে যেন কোনো অবান্তর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।”
হরতাল প্রত্যাহার করে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানোর পরও কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমার কথা মানলেন না। ২০টি মানুষের জীবন নিলেন। এই ২০টি জীবন নিয়ে উনি কি অর্জন করলেন?… জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা- এটা কোন ধরণের আন্দোলন?”
সেই ফোনালাপ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “বার বার অপমান করবে- তা তো হবে না। যথেষ্ট অপমাণিত হয়েছি দেশের জন্য।
“আমি আলোচনায় ডাকলেই উনি হুমকি দেন। আপনাদের কথা চিন্তা করেই সব হজম করেছি।”
মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে খালেদা জিয়া রাজি হলেও বিএনপিতে ওই পদে কেউ না থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “উনাদের (বিএনপি) কোনো মহাসচিব নাই। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তাকে কতোটুকু ক্ষমতা দেয়া আছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদককে তো পূর্ণ ক্ষমতা দেয়া আছে।
“সমস্যা হলো ওদিক থেকে। মতামত আর সিদ্ধান্ত নেবে কে?”
বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরানোর দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “উনি (খালেদা জিয়া) যা আনতে চাচ্ছেন; এবার আসলে আর ছেড়ে যাবে না।”
বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের প্রতি ইংগিত করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “তাদের দাবি মতো অনির্বাচিত কাউকে বসালে নির্বাচন কী হবে?”
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “প্রথম মিটিংয়ে বলেছিলেন, ওই পথে আর না। খাল কেটে আর কুমির আনা না। আমি তো চাই সুস্থ পরিবেশ থাকুক। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হোক।”
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আব্দুস সবুরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এ বৈঠকে।

শেয়ার