ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় ক্লিনিক মালিকের ভুল অপারেশনে প্রসুতি মায়ের মুত্যৃ

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি॥ ঝিকরগাছা বাঁকড়ার কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ক্লিনিক মালিকের ভুল অপারেশনে স্কুল ছাত্রী জুলিয়া নিহত হওয়ার আলোচনা শেষ হতে না হতেই আবারও এক প্রসূতির মৃত্যু হলো। এ ঘটনায় মালিক পলাতক ও ক্লিনিক তালাবদ্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের সরোয়ার হোসেনের গর্ভবতী মেয়ে নার্গিস আক্তারের প্রস্রব বেদনা শুরু হলে গত সোমবার সকালে বাঁকড়া পারবাজারের কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে নিয়ে আসে। এসময় ক্লিনিক মালিক আব্দুর রশিদ নিজেই আল্টাসনো করে নার্গিসকে সিজার করার কথা বলে। নার্গিসের পিতা সরোয়ার হোসেন ও মাতা ফরিদা বেগমের সাথে ৪ হাজার ৫শ টাকা চুক্তিতে মঙ্গলবার সিজার করার কথা হয়। কিন্তু নার্গিসের পিতা সরোয়ার হোসেন ও মাতা ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নার্গিসের কার্ড করা ছিল। কয়েকদিন ধরে তার পেটের বাচ্চা নড়াচড়া করছিল না। তাই বাচ্চার অবস্থা দেখার জন্য ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ক্লিনিক মালিক আব্দুর রশিদ নিজেই আমাদের বিভিন্নভাবে ভূল বুঝিয়ে অপারেশন করেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে নার্গিসের সিজার করা হয়। বিকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ক্লিনিক মালিক আব্দুর রশিদ তাকে যশোর নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর পর ক্লিনিক মালিক পলাতক রয়েছে। এদিকে নার্গিসের মুত্যৃর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে ক্লিনিক মালিক আব্দুর রশিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে একের পর এক রোগীর মৃত্যু হলেও ক্লিনিক মালিক আব্দুর রশিদ নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ক্লিনিক মালিক আব্দুর রশিদ পেট ব্যথার জন্য অপারেশন করলে আলীপুর গ্রামের শামসুর রহমানের শিশু কন্যা, বাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী জুলিয়া খাতুনের মৃত্যু হয়। ঐ ঘটনায় সে কয়েক দিন পলাতক থেকে পরে আবারও স্বদর্পে ব্যবসা শুরু করে।

শেয়ার