আর কত সহিংসতা

এখন হরতাল মানেই সহিংসতা, আগুন ও বোমাবাজি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১২ সালে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৮৪ জন, ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩০৪ জন। বোমার আঘাতে বা সহিংসতায় অনেকে মৃত্যুবরণ করছে, কেউ হয়ে পড়ছে পঙ্গু। আগুনে পুড়েছে অনেক দোতালা বাস, বড়-বাস, মিনিবাস, সিএনজি চালিত স্কুটার ও রিকশা। একটি পাবলিক পরিবহনে আগুন মানেই কয়েকটি পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ। আর বোমার আঘাতে মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব মানেই হাহাকার, যন্ত্রণা, হতাশা, আতঙ্ক, বেকারত্ব, ক্ষরণ, একাকিত্ব ও মানসিক চাপ দেখা দেয় মৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির স্বজনদের মধ্যে। বর্তমান সময়ে যেভাবে হরতালকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে তা বিগত কোন হরতালের সময় দেখা যায়নি। বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। হরতাল ডাকার অধিকার অবশ্যই বিরোধী দলের আছে। অবশ্যই হরতালের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন ইস্যু থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমান ১৮ দলীয় জোট যেভাবে হরতাল ডেকে সহিংসতা করছে তাতে তাদের মূল দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে সুদূরপ্রসারী কোন ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য শুরু করে। যা ১৮ দলীয় জোটের দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের পছন্দ হয়নি। কেননা তারাই ’৭৫-পরবর্তী সময় থেকে যুদ্ধাপরাধীদের লালন করেছে। ক্ষমতায় থাকার সময় ১০ ট্রাক অস্ত্র আসে জঙ্গীবাদের মদদ দেয়া হয়। দেশকে একটি তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেট মেরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিঃশেষ করার পাঁয়তারা করা হয়। হেফাজতে ইসলামের ঘাড়ে বন্দুক রেখে দেশের অগ্রযাত্রাকে পিছু নিয়ে যেতে চাইছে তারা। বিরোধী পক্ষ হরতালের নামে যে নাশকতা শুরু করেছে তাতে গণতন্ত্র ব্যাহত হচ্ছে, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার মরণপণ খেলায় যেন নামা হয়েছে। জাতি এই সহিংসতা কোনভাবে পছন্দ করে না। এবার হরতালের সময় বিরোধী দল যে পন্থায় নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে তাতে দেশে চলমান উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেদনার বিষয় প্রধান বিচারপতির বাসায় বোমা মারার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয় এক শিশুকে। শিশুটি বোমা বহন করার সময় গুরুতর আহত হয়। এর দায়ভার কে নিবে? হত্যা, ব্যক্তিগত ও জাতীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে দেশের শান্তিকামী মানুষ। শুধু তাই নয়, এর আগে হরতালে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থীদের এক বছর নষ্ট হয়। এরপর জেএসি ও জেডিসির ২১ লাখ পরীক্ষার্থী উদ্বেগে রয়েছে। এছাড়া বছরের শেষে আছে প্রতিটি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে বাধাগ্রস্ত করার অধিকার কারো নেই। তাই সময় থাকতে এখনই বিরোধী দলের উচিত হরতালের পথ পরিহার করা। এতেই জাতির মঙ্গল।

শেয়ার