অপরিকল্পিত ঘের করায় কেশবপুরে বিভিন্ন সড়কে ধ্বস, মরে যাচ্ছে গাছ পালা

keshobpur
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর ॥ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেশবপুরের মৎস্য ঘের মালিকরা সড়ক ও জনপথ, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার সড়ক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধ তাদের ঘেরের বেড়ি বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করার ফলে যশোর সাতক্ষীরা মহাসড়কের কেশবপুর এলাকার প্রায় ১কি.মি.সড়কসহ গ্রামীন ২০ কিলোমিটার রাস্তায় ফাটল ও ধসে যাচ্ছে । কেশবপুর উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ৩ হাজার ৬৩১টি মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরগুলি অপরিকল্পিত ভাবে করায় সরকারি রাস্তা ঘেরের বেড়ি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে রাসায়নিক সার ব্যবহার করাসহ রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার পাশাপাশি অতি বৃষ্টি ও ঘেরের পানির প্রচন্ড ঢেউয়ে রাস্তায় দ্রুত ফাটল ও ধসে যাচ্ছে। কেশবপুর-সরসকাটি ,বগা, গড়ভাঙ্গা ও ব্যসডাঙ্গাসহ প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সিংহভাগ ঘেরের গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে এসব সড়ক দিয়ে মালবাহি ও যাত্রিবাহি যান চলাচলে দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
কেশবপুরের ঘের মালিকরা তাদের ইচ্ছা মত সরকারী সড়ক ও গ্রামীন রাস্তাগুওেলাকে তাদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। যাতে সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে যশোর সাতক্ষীরা এই সড়কটির টেকসই সহ দৃষ্টি নন্দন করতে যশোর জেলা পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় উপজেলা বনায়ন প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর মধ্যকুল সমবায় সমিতি এই সড়কের ছাতিয়ানতলা থেকে কেশবপুর পযর্ন্ত ৪কি.মি. সড়কের দু’ধারে সাড়ে ৪ হাজার বাবলা,মেহগনী ও ভুতনিমের চারা রোপন করে। ঘেরের কারণে সড়কটি ইতিমধ্যে হুমকির মধ্যেপড়ায় এই সমিতি সড়কের ফাটল ধরার স্থান থেকে তাদের রোপন কৃত গাছ কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে কেটে নিচ্ছে। এদিকে কেশবপুর পৌরসভাধীন কেশবপুর হাবাসপোল সড়ক, ভোগতী, সরদারপাড়া, জেলেপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, মোড়লপাড়া ও ব্রম্মকাটি সড়কসহ প্রায় ৫০টি সড়কের ধারে একই ভাবে ঘেরের পাড় হিসাবে ব্যবহার করায় সড়কগুলি ভেঙ্গে যাচ্ছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিতার আবু সায়েদ মঞ্জুর আলম জানান, রাস্তায় ফাটল ও ধসে যাওয়ার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের তালিকা করার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাদিউজ্জামান জানান, ঘের নির্মাণে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে তবে কোন আইন না থাকায় এসব ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

শেয়ার