অনিয়মে জর্জরিত মহম্মদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মহম্মদপুর প্রতিনিধি॥ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম আর অপরিচ্ছন পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলছে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিনিয়ত সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে এ অনিয়ম আর দুর্নীতি। যা দেখার কেউ নেই ।
নিয়মতান্ত্রিভাবে হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বিড়ম্বনার শিকার রোগীরা।
এদিকে, হাসপাতালের গেট চত্বর ও আবাসিক এলাকা টেম্পু,অটোরিকশা গ্যারেজ ও গরুর খামারে পরিণত হয়েছে। ডাক্তারদের রুমের সামনে ও হাসপাতালের ভেতরে যত্রতত্র পাওয়া যায় গরুর মল ও বর্জ্য। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিষেধ করা স্বত্বেও স্থানীয়রা প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ করে চলেছে। অপর দিকে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই হাসপাতাল চত্বরে চলে নিয়মিত গাঁজার আড্ডা। এ ব্যপারে বাধা দিলে মাদক সেবীরা হাসপাতালের ডাক্তার ও স্টাফদের বিভিন্ন ধরণের হুমকী দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
স্বাভাবিক পরিবেশ ও রোগীদের কথা বিবেচনা না করে এভাবেই নানা ধরণের অনিয়মকে সঙ্গে নিয়েই চলছে হাসপাতালটি। এ ব্যাপারে উদাসিন হয়ে আছে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে কাগজ কলমে আট জন ডাক্তার থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র চার জন এবং ডেপুটেশনে আছেন দুই জন।
ডাক্তাররা হাসাপাতালের ডিউটি ফেলে রেখে বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে শুরু হলেও ১১ টার আগে নিয়মিত কোন ডাক্তার অফিসে আসে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতে টিকিট নিয়ে ডাক্তারের অপেক্ষায় রোগীদের দাড়িয়ে থাকতে হয়। যদিও কোন ডাক্তার আসে তবুও ক্লিনিক বা চেম্বার থেকে ফোন আসলে হাসপাতালের রোগীদের ফেলে রেখে তারা আবার চলে যায় । রোগীদের সুকৌশলে চেম্বারে যাওয়ার কথাও বলেন তারা।
হাসপাতালের চিকিৎসা আর ওষুধে রোগ ভালো হবে না বলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের চেম্বারে নিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ভিজিট নিয়ে প্রেসক্রিপশন দেয়। ফলে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় দুর দুরান্ত থেকে আগত রোগীদের। হাসপাতালের ভুক্তভোগী রোগী বড়– বিবি বলেন, হাসপাতালে গরিবের কোন চিকিৎসা নেই। তারা শুধু আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালে দায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোকছেদুল মোমিন বলেন, বিভিন্ন ধরণের জটিলতা ও হাসাপাতালের সমস্যা নিয়ে অনেক আগে থেকেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

শেয়ার