সাপ ব্যাঙ পোকা মাকড়ের সাথে জীবনযাপন ॥ ঝাঁপা ও মশ্মিম নগরের প্রায় ১ হাজার পানিবন্দি পরিবারের সীমাহীন দুর্ভোগ

rajgonj
রাজগঞ্জ (যশোর) প্রতিনিধি॥ যশোর মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা ও মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পানিবন্দি পরিবারগুলো সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন পোকা-মাকড়ের সাথে অসহায় জীবন-যাপন করছে। সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে তারা। ১মাস পানিবন্দি অবস্থায় থেকে অনেকের পায়ে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ। চিকিৎসা মিলছে না। চলছে চরম খাদ্য সংকট। গবাদি পশুগুলো গো-খাদ্যের অভাবে পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। মড়ক লেগে মারা গেছে হাঁস, মুরগীগুলোও। আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। এখনো পর্যন্ত কোনো মেডিকেল টিম চিকিৎসার জন্য আসেনি। সরকারি-বেসরকারিভাবেও কোনো সাহায্য সহযোগীতা আসেনি তাদের জন্য। কর্মহীন অবস্থায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। জলাবদ্ধ এলাকায় এমন অবস্থা যে, কোনো মানুষ মারা গেলে অন্য জায়গায় নিয়ে দাফন-কাফন করতে হবে।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কপোতাক্ষ নদ ও ঝাঁপা বাওড়ের উপচে পড়া পানিতে রাজগঞ্জের ঝাঁপা ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক ও মশ্বিমনগর ইউনিয়নে প্রায় ৫শতাধিক পরিবার ১মাস যাবত পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কোনো রকম রান্না করে খাওয়ার মতো একটুকরো শুকনো জায়গা টুকুও নেই। ঘরের ভিতর চৌকি খাটের উপর আলকাতরার টিনের চুলা তৈরি করে রান্না করছে পানিবন্দি গৃহবধূরা। মাঠ-ঘাট সবখানেই জলাবদ্ধ থাকার কারণে শ্রমজীবিরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ঝাঁপা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডের প্রায় ৫ শতাধিক পানিবন্দি পরিবারগুলোর দুঃখের শেষ নেই। এ এলাকার ২টি স্কুল, ২টি মসজিদ তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম ও নামাজ আদায়। মশ্বিমনগর ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক পানিবন্দি পরিবারগুলোর একই অবস্থা। পারখাজুরা বাজারে ও স্কুলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি তলিয়ে গেছে। রাজগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড, ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, এডাস মডেল স্কুল ও ভূমি অফিসের মাঠে ৩/ সাড়ে ৩ ফুট পানি জমে রয়েছে। পানি নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে জানালেন পানিবন্দি শত শত মানুষ। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধ এলাকা মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন পরিদর্শনও করেছেন। ঝাঁপা গ্রামের রনি জানিয়েছেন, পানি উঠলেই ৩ মাস লাগে সরতে। সেই ৩ মাস ব্যাপক সমস্যা নিয়েই বসবাস করতে হয় আমাদের। ঝাঁপা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পানিবন্দি অসুস্থ্য মোনতাজ আলী (৬৫) বলেন, পানির মধ্যে সাপ, ব্যাঙসহ পোকা-মাকড়ের সাথে বসবাস করছি। সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় মেম্বার আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, পানিবন্দি অবস্থায় থাকা মানুষগুলোর ভীষণ কষ্ট। কাজকর্ম না থাকায় অর্থ সংকট। তারপর বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেশি। সবদিক মিলিয়ে খুব কষ্ট তাদের।

শেয়ার