রিট্রিট সেরিমনিতে সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন ॥ ভারত-বাংলাদেশ একই বৃন্তে দুটি কুসুম : সুশীল কুমার শিন্ডে

Retritsirimoni
ইন্দ্রজিৎ রায় ॥
বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে উদ্বোধন হয়েছে যৌথ রিট্রিট সেরিমনি। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বুধবার বিকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে এই রিট্রিট সিরিমনির উদ্বোধন করেন। পরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এপারের নিরাপত্তা গেটে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্র নাথ ও কবি নজরুলের ম্যুরালও উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিনখান আলমগীর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী আদালত যেকোন অপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। আদালত তারেক রহমান অপরাধী হিসেবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা বলবৎ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় তারেক জিয়াকে ফেরত চেয়ে ব্রিটেনে চিঠি পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে আজকের এই উদ্যোগ উভয় দেশের সীমান্তে সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশিল কুমার সিন্ডে এসব কথা বলেন।
ভারত-বাংলাদেশের মানুষ একটি বৃন্তে দুটি কুসুমের মতো। রিট্রিট সেরিমনি দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বিজিবি, বিএসএফ এবং সীমান্তবাসীর মধ্যে সুসম্পর্ক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। একটি নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করবে পরস্পরকে।
বেনাপোল-পেট্রোপোল সীমান্তে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিএসএফের মহাপরিচালক সুভাষ যোশী, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম, ডেপুটি হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তীসহ দু’দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা । ।
দু’মন্ত্রী তাদের বক্তব্যে বলেন, এই রিট্রিট সিরিমনি কার্যক্রম দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ-সম্প্রীতি আরো জোরদার করবে। বাড়াব সচেতনতা। অবৈধ সীমান্ত পারাপারের প্রবণতাও কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা
দু’দেশের এই যৌথ আয়োজনকে ঘিরে সীমান্ত এলাকা সেজেছিল বর্ণিল সাজে। বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তা। উৎসবকে ঘিরে আনন্দ-উল্লাসের কমতি ছিল না সীমান্তের দু’পাড়ের সাধারণ মানুষের মাঝেএ অনুষ্ঠানের দুদেশের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
এখন থেকে প্রতিদিন সকালে দু’দেশের পতাকা সকালে উত্তোলন ও বিকেলে নামানো হবে। দু’ঘন্টার এই অনুষ্ঠান শেষে যথানিয়মে শুরু হয় পাসপোর্ট যাত্রীদের পারাপার ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।

শেয়ার