যশোরে হরতালে মাঠে নেই ১৮ দলের নেতারা ॥ শিশুদের পাউরুটির লোভ দেখিয়ে পিকেটিং

Hortal
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ১৮ দলের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনেও মাঠে ছিল না ১৮দলের নেতারা। তবে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের সহধর্মিনী নার্গিস বেগমের সামনে সকালে শিশুদের পাউরুটির লোভ দেখিয়ে দড়াটানায় কিছুক্ষণ পিকেটিং করানো হয়। পরে তারা শহরে একটি মিছিল করে দড়াটানা ছেড়ে যায়। এক্ষেত্রে হরতাল বিরোধীরা শহরের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, তারা হরতাল প্রত্যাখ্যান করে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও পথসভা করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দড়াটানার আরা মেডিকেলে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের সহধর্মিনী নার্গিস বেগম। তখন দলের কিছু নেতানামধারী সেখানে উপস্থিত হয় এবং পিকেটিং করেন। তবে তারা নিজেরা পিকেটিং না করে ৩/৪ বছরের শিশুদের দিয়ে পিকেটিং করায়। এতে অবাক হয় উপস্থিত লোকজন। পরে তাদের নার্গিস ইসলামের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় ওই শিশুদের পাউরুটি খেতে দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে হরতাল প্রত্যাখান করে শহরে বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টায় গাড়ীখানা রোড থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে শহরে মিছিল বের করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বিপুল, জেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক লিটু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু প্রমুখ। এদিকে জনদুর্ভোগ বাড়াতে হরতাল ডাকা হলেও জনগণ সাড়া না দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে বের হয়। শহরের অফিস আদালত, ব্যাংক বিমাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল খোলা। সকাল থেকেই শহরে রিকসা, ভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। হরতাল সমর্থকদের উপস্থিতি না থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের অধিকাংশ দোকানপাটও খুলে যায়। তখন জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে। আর গোটা হরতালেই কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কিছু হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার