‘ইরানে আফগান শরণার্থী ৮ লাখ’

iran
সমাজের কথা ডেস্ক॥ জাতিসংঘের হাই কমিশন ফর রিফিউজি (ইউএনএইচসিআর) ইরানে অবস্থানকারী আট লাখ ৪০ হাজার আফগান শরণার্থীদের ‘ভুলে যায়নি’ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা।
ইউএনএইচসিআর এর সহকারী হাই কমিশনার জ্যানেট লিম বলেন, “পুরো বিশ্ব এই মুহূর্তে সিরিয়ার সংকটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, ইউএনএইচসিআর দেখিয়েছে তারা আফগান শরণার্থীদের ভুলে যায়নি।“
আফগান শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় অংশ ইরানে আশ্রয় নিয়েছে। এদের অনেকেই ১৯৮০ সালে দেশ ছেড়েছে বলে দ্য ডন জানিয়েছে।
২০১৩ সালে শরণার্থীদের সহযোগিতার জন্য ছয় কোটি মার্কিন ডলারের বাজেট ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। লিম বলেন, “ইউএনএইচসিআর তাদের স্বল্প সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।“
তিনি আরো বলেন, “প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এতো বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চাহিদা মেটাতে তেহরান প্রচুর সহযোগিতা করেছে।“
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আফগানিস্তান এখনো গভীর সংকটে। বিশেষ করে সেখানে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি এবং কাজের সুযোগ অনেক কম।
ইউএনএইচসিআর ‘সবচে অরক্ষিত’ দেশগুলোর শরণার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের অধিক সাহায্য করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সংস্থাটি গত বছর তাদের নতুন স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি চালু করে। যার মাধ্যমে এরই মধ্যে দুই লাখ গুরুতর অসুস্থ শরণার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, ২০১৩ সালের শুরুতে ছয় হাজার চারশ’ আফগান শরণার্থী যারা ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা দেশে ফিরে গেছেন।
লিম বলেন, শরণার্থীদের যারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন তাদের প্রত্যেককে জাতিসংঘ দেড়শ’ মার্কিন ডলার দেবে এবং তারা সংস্থাটির স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
এই উদ্যোগ আফগান শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস জাতিসংঘের।
তালেবান শাসনের পতনের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আফগানিস্তানের বিপুল সংখ্যক নাগরিক শরণার্থী হয়ে জীবনযাপন করছে।
বিশ্বে যেসব দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসেবে অন্যদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আফগানিস্তান তাদের মধ্যে অন্যতম।

শেয়ার